ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবরোধে সবকিছু স্বাভাবিক চট্টগ্রাম শহরে

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম

ভোট বর্জনে তিন দিনের গণসংযোগ শেষে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর একদিনের কঠোর অবরোধ শুরু হয়েছে।

রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে দলগুলো। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এতে সায় দেয় জামায়াত ও সমমনা দলগুলো।

এদিকে অবরোধে সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলতে দেখা গেছে, স্বাভাবিক দিনের থেকে কিছুটা গণপরিবহন কম থাকলেও অবরোধের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম নগরজুড়ে।

নিউমার্কেট, চকবাজার, লালখান বাজার, দেওয়ান হাট, বহদ্দারহাট, কাস্টম, বন্দরটিলা, অলংকার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রতিদিনের মত যানবাহন চলছে এসব এলাকায়, নিত্যদিনের মতো স্বাভাবিক  যানজটও লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও বেশি দেখা গেছে। তবে নাশকতা ও ঝামেলা এড়াতে সড়কে মানুষের কম বেরিয়েছে।

অবরোধের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে কথা হয় বেশ কয়েকজন বাস চালক ও পথচারীদের সাথে, অবরোধের প্রভাব তেমন দেখা না গেলেও মানুষের মাঝে একটি লুকানো ভয় কাজ করছে বলে জানান তারা।

নগরীর নিউমার্কেট  এলাকায় ২নং সিটি সার্ভিস বাস (নিউমার্কেট টু কালুরঘাট) আফজাল  বলেন, ‘আমরা ভয় নিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হইছি, জানি না কখন কে আগুন দিবে, কখন ভাঙচুর করবে, রাস্তায় তেমন প্রভাব না থাকলেও আমাদের ভয় তো আছে।

পথচারী রতন বড়ুয়া  বলেন, পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হয়, নয়ত এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেউ বের হতো না, মনে সব সময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করে। জানি না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।

গত অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সারা দেশে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বিএনপি ও জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো।

তবে অবরোধে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এলাকায় বিএনপির দক্ষিণ ও মহানগরের কিছুু নেতা লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে।

আবার চট্টগ্রাম জিইসির মোড় ২ নং গেইট এলাকায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ)ও বাম ঐক্যজোট চট্টগ্রাম জেলার দলনেতা আল কাদেরি জয় এর নেতৃত্বে একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জনে জনগণকে আহবান জানিয়ে বিভিন্ন দোকানপাট হোটেল রেস্টুরেন্ট ও ফুটপাতে লিফলেট বিতরণ করে দেখা যায়।

সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ স্হানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
৫২ বার পড়া হয়েছে

অবরোধে সবকিছু স্বাভাবিক চট্টগ্রাম শহরে

আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩

ভোট বর্জনে তিন দিনের গণসংযোগ শেষে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর একদিনের কঠোর অবরোধ শুরু হয়েছে।

রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে দলগুলো। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এতে সায় দেয় জামায়াত ও সমমনা দলগুলো।

এদিকে অবরোধে সকাল থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলতে দেখা গেছে, স্বাভাবিক দিনের থেকে কিছুটা গণপরিবহন কম থাকলেও অবরোধের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি চট্টগ্রাম নগরজুড়ে।

নিউমার্কেট, চকবাজার, লালখান বাজার, দেওয়ান হাট, বহদ্দারহাট, কাস্টম, বন্দরটিলা, অলংকার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রতিদিনের মত যানবাহন চলছে এসব এলাকায়, নিত্যদিনের মতো স্বাভাবিক  যানজটও লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও বেশি দেখা গেছে। তবে নাশকতা ও ঝামেলা এড়াতে সড়কে মানুষের কম বেরিয়েছে।

অবরোধের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে কথা হয় বেশ কয়েকজন বাস চালক ও পথচারীদের সাথে, অবরোধের প্রভাব তেমন দেখা না গেলেও মানুষের মাঝে একটি লুকানো ভয় কাজ করছে বলে জানান তারা।

নগরীর নিউমার্কেট  এলাকায় ২নং সিটি সার্ভিস বাস (নিউমার্কেট টু কালুরঘাট) আফজাল  বলেন, ‘আমরা ভয় নিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হইছি, জানি না কখন কে আগুন দিবে, কখন ভাঙচুর করবে, রাস্তায় তেমন প্রভাব না থাকলেও আমাদের ভয় তো আছে।

পথচারী রতন বড়ুয়া  বলেন, পেটের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হয়, নয়ত এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেউ বের হতো না, মনে সব সময় একটা আতঙ্ক বিরাজ করে। জানি না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।

গত অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশে হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সারা দেশে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বিএনপি ও জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো।

তবে অবরোধে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এলাকায় বিএনপির দক্ষিণ ও মহানগরের কিছুু নেতা লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে।

আবার চট্টগ্রাম জিইসির মোড় ২ নং গেইট এলাকায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ)ও বাম ঐক্যজোট চট্টগ্রাম জেলার দলনেতা আল কাদেরি জয় এর নেতৃত্বে একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জনে জনগণকে আহবান জানিয়ে বিভিন্ন দোকানপাট হোটেল রেস্টুরেন্ট ও ফুটপাতে লিফলেট বিতরণ করে দেখা যায়।

সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ স্হানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো।