ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আগামী বুধবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয় নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি

নিজস্ব সংবাদ

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে শুনানি আগামীকাল বুধবার

 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

শুধু এই মামলার শুনানির দিন ধার্যের জন্য বেলা সাড়ে ১১টায় চেম্বার বিচারপতির আদালত বসেছিলেন।

পরে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ আবেদন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে নয়। তিনি বলেন, দুইজন আবেদনকারী আবেদন করেছেন। আরও একজন আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হবেন। আবেদনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে- একদিকে আন্দোলন হচ্ছে, অন্যদিকে হাইকোর্টের রায় হয়েছে, তাই এর একটি জাস্টিফিকেশন হওয়া দরকার।

শাহ মঞ্জুরুল বলেন, আমরা আপাতত রায়টা স্থগিত চাইছি। আমরা চাই এই বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান হোক। আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

তিনি বলেন, চেম্বার আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বুধবার শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এর আগে, ৪ জুলাই সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

সেদিন আপিল বিভাগ এ বিষয়ে শুনানি করেননি, ‘নট টুডে’ বলে আদেশ দেন। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, আপাতত হাইকোর্টের রায় যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক। রায় প্রকাশিত হলে আপনারা ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করুন। আমরা শুনব।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আন্দোলন হচ্ছে হোক। রাজপথে আন্দোলন করে কি হাইকোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আপিল বিভাগে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে।

 গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে, না কি বাতিল হবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
২৮ বার পড়া হয়েছে

আগামী বুধবার মুক্তিযোদ্ধা কোটা বিষয় নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি

আপডেট সময় ০৬:১৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে শুনানি আগামীকাল বুধবার

 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।

শুধু এই মামলার শুনানির দিন ধার্যের জন্য বেলা সাড়ে ১১টায় চেম্বার বিচারপতির আদালত বসেছিলেন।

পরে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ আবেদন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষে নয়। তিনি বলেন, দুইজন আবেদনকারী আবেদন করেছেন। আরও একজন আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হবেন। আবেদনকারীদের বক্তব্য হচ্ছে- একদিকে আন্দোলন হচ্ছে, অন্যদিকে হাইকোর্টের রায় হয়েছে, তাই এর একটি জাস্টিফিকেশন হওয়া দরকার।

শাহ মঞ্জুরুল বলেন, আমরা আপাতত রায়টা স্থগিত চাইছি। আমরা চাই এই বিষয়টির একটি সম্মানজনক সমাধান হোক। আপিল বিভাগ সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগ যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেব।

তিনি বলেন, চেম্বার আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বুধবার শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এর আগে, ৪ জুলাই সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

সেদিন আপিল বিভাগ এ বিষয়ে শুনানি করেননি, ‘নট টুডে’ বলে আদেশ দেন। আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষকে বলেন, আপাতত হাইকোর্টের রায় যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক। রায় প্রকাশিত হলে আপনারা ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করুন। আমরা শুনব।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আন্দোলন হচ্ছে হোক। রাজপথে আন্দোলন করে কি হাইকোর্টের রায় পরিবর্তন করবেন?

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।

পরে আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, আপিল বিভাগে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে।

 গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।

সেদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকবে, না কি বাতিল হবে এ বিষয়ে আপিল বিভাগই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।