ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আনোয়ার সুলতান, সাভার

 

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন নাঈম ও মীম দাম্পতি। বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের দুই বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় তাদের। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন সাবেক স্বামী। বনিবনা না হওয়ায় ক্ষোভের বশে স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে করেন আত্মহত্যা। প্রতিবেশীরা চিৎকার চেঁচামেচি করেও থামাতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৩০জানুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ী গফুর মন্ডলের মালিকানাধীন দুইতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত হয় পুলিশ ও র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিট।

নিহত মীম আক্তার (২২) নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার খোকশাবাড়ি গ্রামের মংলা সরদারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় ফোরএ ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। নাঈম (২৫) নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার মতিমপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন তারা। দাম্পত্য জীবনে দুজনের বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের দুই বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় তাদের। এরপর থেকে মীম তার বান্ধবী নাতাশার সাথে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করে আসছিল। আজ মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাসায় আসলে পিছু নিয়ে বাসায় উপস্থিত হয় নাঈম। ১ মিনিট কথা আছে বলে ঘরে ঢুকে এই হত্যাকান্ড ঘটান তিনি।

মীমের রুমমেট নাতাশা বলেন, মীম আমার বান্ধবী। আমরা অনেকদিন ধরেই একসাথে থাকি। আজ দুপুরে লাঞ্চের বিরতিতে বাসায় আসলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাঈমও বাসায় আসে। এসেই আমাকে বলে আপনি একটু বাহিরে যান ওর সাথে আমার কথা আছে। আমি আপত্তি করলে নাঈম আমাকে জোর করে রুম থেকে বের করে দেয়। আমার সন্দেহ হলে আবারও রুমে যাই এবং দেখি নাঈমের হাতে ছুরি। তারা দুজনে কথা কাটাকাটি করছে। আমাকে দেখে ছুরি নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। তখন আমি দৌড়িয়ে নিচে নেমে এসে বাসার লোকজনকে জানাই। সবাই দুতলায় গিয়ে দেখি দরজায় ছিটকিনী লাগানো ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তখন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি মীম মেঝেতে পড়ে আছে আর নাঈম ফাঁস নিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে।

নিহত মীমের ভাই খোরশেদ আলম বলেন, আমার বোনের সাথে নাঈম প্রেম করে বিয়ে করেছিল। আমরা মেনেও নিয়েছিলাম। ২ বছর সংসার করে গত একবছর আগে আমার বোন নাঈমকে ডিভোর্স দেয়। কিছুদিন আগে নাঈমের বাবা মারা যায়, এরমধ্যে নাঈম আমাদের কাছে তার আগের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে আমার বোনের সাথে ফের বিয়ে করে সংসার করবে বলে জানায়। এরমধ্যে আজ এ ঘটনা।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিকেল ৩ টার পরে এই হত্যাকান্ডের খবর পাই। খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের টিম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে চলে আসি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তদন্ত শেষে বলা যাবে এই হত্যাকান্ডের আসল রহস্য।

র‍্যাব-৪ সিপিসি ২ এর কোম্পানী কমান্ডার লে কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, নিজের সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পরে নিজেও আত্মহত্যা করেছে, প্রাথমিকভাবে আমরা এটুকুই জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত বিষয়টি পরিষ্কার না। আমরা তদন্ত করছি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪
৯৬ বার পড়া হয়েছে

আশুলিয়ায় সাবেক স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১০:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

 

প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন নাঈম ও মীম দাম্পতি। বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের দুই বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় তাদের। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন সাবেক স্বামী। বনিবনা না হওয়ায় ক্ষোভের বশে স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে করেন আত্মহত্যা। প্রতিবেশীরা চিৎকার চেঁচামেচি করেও থামাতে পারেননি।

মঙ্গলবার (৩০জানুয়ারি) দুপুর ২ টার দিকে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ী গফুর মন্ডলের মালিকানাধীন দুইতলা বাড়ির দ্বিতীয়তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত হয় পুলিশ ও র‍্যাবের বিভিন্ন ইউনিট।

নিহত মীম আক্তার (২২) নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার খোকশাবাড়ি গ্রামের মংলা সরদারের মেয়ে। তিনি স্থানীয় ফোরএ ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। নাঈম (২৫) নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার মতিমপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন তারা। দাম্পত্য জীবনে দুজনের বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের দুই বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় তাদের। এরপর থেকে মীম তার বান্ধবী নাতাশার সাথে ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করে আসছিল। আজ মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাসায় আসলে পিছু নিয়ে বাসায় উপস্থিত হয় নাঈম। ১ মিনিট কথা আছে বলে ঘরে ঢুকে এই হত্যাকান্ড ঘটান তিনি।

মীমের রুমমেট নাতাশা বলেন, মীম আমার বান্ধবী। আমরা অনেকদিন ধরেই একসাথে থাকি। আজ দুপুরে লাঞ্চের বিরতিতে বাসায় আসলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাঈমও বাসায় আসে। এসেই আমাকে বলে আপনি একটু বাহিরে যান ওর সাথে আমার কথা আছে। আমি আপত্তি করলে নাঈম আমাকে জোর করে রুম থেকে বের করে দেয়। আমার সন্দেহ হলে আবারও রুমে যাই এবং দেখি নাঈমের হাতে ছুরি। তারা দুজনে কথা কাটাকাটি করছে। আমাকে দেখে ছুরি নিয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে। তখন আমি দৌড়িয়ে নিচে নেমে এসে বাসার লোকজনকে জানাই। সবাই দুতলায় গিয়ে দেখি দরজায় ছিটকিনী লাগানো ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তখন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি মীম মেঝেতে পড়ে আছে আর নাঈম ফাঁস নিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে।

নিহত মীমের ভাই খোরশেদ আলম বলেন, আমার বোনের সাথে নাঈম প্রেম করে বিয়ে করেছিল। আমরা মেনেও নিয়েছিলাম। ২ বছর সংসার করে গত একবছর আগে আমার বোন নাঈমকে ডিভোর্স দেয়। কিছুদিন আগে নাঈমের বাবা মারা যায়, এরমধ্যে নাঈম আমাদের কাছে তার আগের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে আমার বোনের সাথে ফের বিয়ে করে সংসার করবে বলে জানায়। এরমধ্যে আজ এ ঘটনা।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিকেল ৩ টার পরে এই হত্যাকান্ডের খবর পাই। খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের টিম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে চলে আসি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। তদন্ত শেষে বলা যাবে এই হত্যাকান্ডের আসল রহস্য।

র‍্যাব-৪ সিপিসি ২ এর কোম্পানী কমান্ডার লে কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, নিজের সাবেক স্ত্রীকে হত্যার পরে নিজেও আত্মহত্যা করেছে, প্রাথমিকভাবে আমরা এটুকুই জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত বিষয়টি পরিষ্কার না। আমরা তদন্ত করছি।