ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

একদফা দাবিতে সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ ইবি শিক্ষার্থীদের

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি

সরকারি চাকরিতে ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটার বিপক্ষে দেশব্যাপী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও রাজপথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে সকাল থেকে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইবি শিক্ষার্থীরা। অবিরুদ্ধ সড়কে ১০ কিলোমিটারের দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা৷ কর্মসূচির একপর্যায়ে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেডের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় তারা। এতে দক্ষিণবঙ্গে চলাচলকারী ৩২ জেলার মানুষ আটকে পড়ে।

আটকে থাকা যাত্রীরা বলেন, দেশ স্বাধীন করার পিছনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কখনো অস্বীকার করবো না। তবে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অযৌক্তিক। আজকে আমরা এখানে কষ্ট করছি সত্য, তবে এই কষ্টের বিনিময়ে হলেও কোটা ব্যবস্থার সংস্কার হোক। তবে, তারা যেভাবে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে এটা অনুচিত। এখানে বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষ আছে, তাদের জরুরি কাজ আছে কিন্তু তারা যেতে দিচ্ছে না। এই গরমে মহিলা, বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এগুলো বিবেচনা করা উচিত।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, আজকে বাংলা ব্লকেডের সকাল-সন্ধ্যা মহাসড়ক অবরোধের অংশ হিসেবে আমরা রাজপথে অবস্থান করছি। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে যাবো না। হাইকোর্টের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি যেন এই কোটা বৈষম্য দূর করে চাকরির বাজারে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরের সন্তানেরা অনগ্রসর বিবেচিত হতে পারে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কখনোই অনগ্রসর নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে থাকা ৫৬ শতাংশ কোটাপদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করলে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সারাদেশর ছাত্রসমাজ কোটাসংস্কার দাবিতে আন্দোলন করছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
১৮ বার পড়া হয়েছে

একদফা দাবিতে সকাল থেকে মহাসড়ক অবরোধ ইবি শিক্ষার্থীদের

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

সরকারি চাকরিতে ৩০% মুক্তিযুদ্ধ কোটার বিপক্ষে দেশব্যাপী চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও রাজপথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে সকাল থেকে কুষ্টিয়া খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইবি শিক্ষার্থীরা। অবিরুদ্ধ সড়কে ১০ কিলোমিটারের দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ১০ টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা৷ কর্মসূচির একপর্যায়ে সকাল-সন্ধ্যা বাংলা ব্লকেডের অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেয় তারা। এতে দক্ষিণবঙ্গে চলাচলকারী ৩২ জেলার মানুষ আটকে পড়ে।

আটকে থাকা যাত্রীরা বলেন, দেশ স্বাধীন করার পিছনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কখনো অস্বীকার করবো না। তবে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা অযৌক্তিক। আজকে আমরা এখানে কষ্ট করছি সত্য, তবে এই কষ্টের বিনিময়ে হলেও কোটা ব্যবস্থার সংস্কার হোক। তবে, তারা যেভাবে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করছে এটা অনুচিত। এখানে বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষ আছে, তাদের জরুরি কাজ আছে কিন্তু তারা যেতে দিচ্ছে না। এই গরমে মহিলা, বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এগুলো বিবেচনা করা উচিত।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, আজকে বাংলা ব্লকেডের সকাল-সন্ধ্যা মহাসড়ক অবরোধের অংশ হিসেবে আমরা রাজপথে অবস্থান করছি। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে যাবো না। হাইকোর্টের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি যেন এই কোটা বৈষম্য দূর করে চাকরির বাজারে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরের সন্তানেরা অনগ্রসর বিবেচিত হতে পারে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কখনোই অনগ্রসর নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে থাকা ৫৬ শতাংশ কোটাপদ্ধতি বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করলে চলতি বছরের ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সারাদেশর ছাত্রসমাজ কোটাসংস্কার দাবিতে আন্দোলন করছে।