ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গায়ে ঝোল পড়াকে কেন্দ্র করে ইবিতে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি

খাবার হোটেলে গায়ে তরকারির ঝোল পড়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে(ইবি) সিনিয়র-জুনিয়র মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(১৭ মে) জুম্মা’র নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন খাবারের দোকানটিকে দুপুরের খাবার খেতে বসেন সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হোসেন জারিফ এবং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জুবায়ের হোসেন রনি, সিয়াম আহমেদ সিফাতসহ কয়েকজন। সিয়াম তরকারি নেয়ার সময় জারিফের শরীরে ঝোল পড়লে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। এসময় রনি এগিয়ে এলে জারিফের সাথে তার নতুন করে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় তারা একে অপরকে হুমকি দিতে থাকে যা পরবর্তীতে জিয়া মোড়ে গিয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

মারামারিতে ইবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী তাসিন আজাদ, সহসভাপতি শিমুল খান, রনি, জারিফ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু ও সাদ্দাম হোসেন হলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুবায়ের হোসেন রনি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রতন রায়ের অনুসারী অপরদিকে মারুফ হোসেন জারিফ আরেক সহ-সভাপতি শিমুল খানের অনুসারী।

মারুফ হোসেন জারিফ বলেন, নামাজ পড়ে যখন খেতে বসলাম তখন পাশে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী ছিল, তরকারির ঝোল পড়লে আমি বলি সিনিয়রদের গায়ে ঝোল পড়লে একটু সরি টরি বলতে হয় জানো না। সে তখন সরি বললেও পাশ থেকে রনি এসে খেপে যায়। মারার জন্য উদ্যত হয় তখন সিনিয়র হিসেবে আমিও বাসন নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যাই। ও তখন মা বাবা নিয়ে গালি দেয়। দোকান থেকে চলে এসে শিমুল ভাইকে বিষয়টা জানাই। ঐদিক থেকে জিয়ামোড়ে দাঁড়িয়ে রনি বলে, ‘আসো, সামনে আসো, দেখি কী করতে পারিস!’ তখন শিমুল ভাইয়ের সামনে আইসা রনি বলতেছিল ভাই , কুষ্টিয়া যাওয়া লাগবে না??। এরপর ভাইয়েরা বিষয়টা সমাধান করে দেন।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী জোবায়ের হোসেন রনি বলেন, আমি ভাইকে চিনতে পারিনি। গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে ভাই আমার মা-বাবা ধরে গালি দেয় এজন্য বাকবিতন্ডা হয়। কিন্তু এখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শিমুল খান বলেন, জারিফ তাৎক্ষণিক বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য আমাকে বললে রনির কাছে যাই, সে আমাকে ভালো করেই চিনতো। কিন্তু ওই সময় তার উগ্র আচরণ ভালো লাগেনি। সিনিয়র ভাইয়ের প্রতি সম্মানবোধটুকু তার নাই। আমি পরিস্থিতি থামাতে গেলে সে আরো উচ্চবাচ্য।

বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রলীগের আরেক সহ-সভাপতি রতন রায় বলেন, গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এটা তেমন বড় বিষয় না। আমরা পরে জুনিয়রদের সিনিয়রদের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছি।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনি নি। তবে বিষয়টি দুঃখজনক ব্যাক্তিগত বিষয়ে মারামারির দায় সংগঠন নিবে না।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর প্রভাষক মোঃ ইয়ামিন মাসুম বলেন, ক্যাম্পাসে অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যা আমাদের নজরে পড়ে না। আপনাদের নজরে যেহেতু পড়েছে। সুতরাং দু’পক্ষের কোনো এক পক্ষ অভিযোগ পত্র দায়ের করলে প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪
৭৬ বার পড়া হয়েছে

গায়ে ঝোল পড়াকে কেন্দ্র করে ইবিতে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি

আপডেট সময় ০৮:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

খাবার হোটেলে গায়ে তরকারির ঝোল পড়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে(ইবি) সিনিয়র-জুনিয়র মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(১৭ মে) জুম্মা’র নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন খাবারের দোকানটিকে দুপুরের খাবার খেতে বসেন সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হোসেন জারিফ এবং জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জুবায়ের হোসেন রনি, সিয়াম আহমেদ সিফাতসহ কয়েকজন। সিয়াম তরকারি নেয়ার সময় জারিফের শরীরে ঝোল পড়লে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। এসময় রনি এগিয়ে এলে জারিফের সাথে তার নতুন করে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এসময় তারা একে অপরকে হুমকি দিতে থাকে যা পরবর্তীতে জিয়া মোড়ে গিয়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়।

মারামারিতে ইবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী তাসিন আজাদ, সহসভাপতি শিমুল খান, রনি, জারিফ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু ও সাদ্দাম হোসেন হলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুবায়ের হোসেন রনি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রতন রায়ের অনুসারী অপরদিকে মারুফ হোসেন জারিফ আরেক সহ-সভাপতি শিমুল খানের অনুসারী।

মারুফ হোসেন জারিফ বলেন, নামাজ পড়ে যখন খেতে বসলাম তখন পাশে ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী ছিল, তরকারির ঝোল পড়লে আমি বলি সিনিয়রদের গায়ে ঝোল পড়লে একটু সরি টরি বলতে হয় জানো না। সে তখন সরি বললেও পাশ থেকে রনি এসে খেপে যায়। মারার জন্য উদ্যত হয় তখন সিনিয়র হিসেবে আমিও বাসন নিয়ে তার দিকে এগিয়ে যাই। ও তখন মা বাবা নিয়ে গালি দেয়। দোকান থেকে চলে এসে শিমুল ভাইকে বিষয়টা জানাই। ঐদিক থেকে জিয়ামোড়ে দাঁড়িয়ে রনি বলে, ‘আসো, সামনে আসো, দেখি কী করতে পারিস!’ তখন শিমুল ভাইয়ের সামনে আইসা রনি বলতেছিল ভাই , কুষ্টিয়া যাওয়া লাগবে না??। এরপর ভাইয়েরা বিষয়টা সমাধান করে দেন।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের কর্মী জোবায়ের হোসেন রনি বলেন, আমি ভাইকে চিনতে পারিনি। গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে ভাই আমার মা-বাবা ধরে গালি দেয় এজন্য বাকবিতন্ডা হয়। কিন্তু এখানে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শিমুল খান বলেন, জারিফ তাৎক্ষণিক বিষয়টা মীমাংসা করার জন্য আমাকে বললে রনির কাছে যাই, সে আমাকে ভালো করেই চিনতো। কিন্তু ওই সময় তার উগ্র আচরণ ভালো লাগেনি। সিনিয়র ভাইয়ের প্রতি সম্মানবোধটুকু তার নাই। আমি পরিস্থিতি থামাতে গেলে সে আরো উচ্চবাচ্য।

বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, শাখা ছাত্রলীগের আরেক সহ-সভাপতি রতন রায় বলেন, গায়ে ঝোল পড়া নিয়ে জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। এটা তেমন বড় বিষয় না। আমরা পরে জুনিয়রদের সিনিয়রদের সাথে কথা বলিয়ে দিয়েছি।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু শুনি নি। তবে বিষয়টি দুঃখজনক ব্যাক্তিগত বিষয়ে মারামারির দায় সংগঠন নিবে না।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর প্রভাষক মোঃ ইয়ামিন মাসুম বলেন, ক্যাম্পাসে অনেক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে যা আমাদের নজরে পড়ে না। আপনাদের নজরে যেহেতু পড়েছে। সুতরাং দু’পক্ষের কোনো এক পক্ষ অভিযোগ পত্র দায়ের করলে প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নিতে পারে।