ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী দখল

চট্টগ্রামে অবৈধ স্থাপনা বন্ধের দাবীতে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন

মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম

কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণ মুক্ত, অবৈধ বালু উত্তোলন,নদীর অপরিকল্পিত ব্যবহার, শিল্প কলকারখানা অপরিশোধিত রাসায়নিক ও ডায়িং এর বিষাক্ত বর্জ্য থেকে কর্ণফুলীকে বাঁচাতে এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরের দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা, নতুন করে কর্ণফুলী দখল বন্ধ করা এবং সদরঘাট সংস্কারের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন করেছে আরকেএস ফাউন্ডেশন সহ ৫টি সংগঠন।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী ) সকালে  চট্টগ্রাম বন্দর চত্বর আয়োজিত অবস্থান  ধর্মঘট ও মানববন্ধন বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক তৈরিকৃত স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্ল্যান ২০১৪ অনুযায়ী বন্দর মোহনা থেকে হালদা মোহনা পর্যন্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষা করে কর্ণফুলীর পূণ্য যৌবন ফিরে আনা হোক।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ি ২০২০ সালের ৪ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৫ দিন অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর কেন বাকি দুই হাজারের অধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি তা জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জনগণ জানতে চায়। সম্প্রতি কর্ণফুলী তীরে আবারও দখল কার্যক্রম চলমান থাকলেও জেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

 

বক্তারা আরো বলেন, ৯২ শতাংশ অর্থনীতির সঞ্চালক কর্ণফুলী নদীর সকল অবৈধ  স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর উভয় তীরে টিকে থাকা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ৫৫৮ প্রকারের গাছ রক্ষা করতে হবে। শুধু তাই নয় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার কারণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে আদালতের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, কর্ণফুলী দিন দিন দখল ও দূষণের কারণে ইতিমধ্যেই ৬৩ প্রকার নদীর মাছ ও প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। সম্প্রতি ইকো নামের একটি সংগঠনের গবেষণায় দেখা গেছে  বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত কর্ণফুলীর দুই তীরে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে আছে। দূষণ ঠেকাতে উদ্যোগ না নিলে আরও ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে যাবে।

ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্ক’র নির্বাহী সাংবাদিক ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম পরিবেশে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান, মানববন্ধন সমাবেশে বক্তাব্য রাখেন,  সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা চট্টগ্রাম সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা, আরকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন জাহেদুল করিম বাপ্পি সিকদার, কৃষিবিদ কাজী গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারী করে বক্তারা বলেন, আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক তৈরিকৃত স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্ল্যান ২০১৪ অনুযায়ী বন্দর মোহনা থেকে হালদা মোহনা পর্যন্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলীর নাব্যতা সংরক্ষণ করা না হয় আগামী শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে চাক্তাই খালের মোহনায় লাগাতার ভাবে অবস্থান কর্মসূচী পালনের ঘোষণা করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
১৫৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী দখল

চট্টগ্রামে অবৈধ স্থাপনা বন্ধের দাবীতে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৭:১০:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণ মুক্ত, অবৈধ বালু উত্তোলন,নদীর অপরিকল্পিত ব্যবহার, শিল্প কলকারখানা অপরিশোধিত রাসায়নিক ও ডায়িং এর বিষাক্ত বর্জ্য থেকে কর্ণফুলীকে বাঁচাতে এবং হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরের দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করা, নতুন করে কর্ণফুলী দখল বন্ধ করা এবং সদরঘাট সংস্কারের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট ও মানববন্ধন করেছে আরকেএস ফাউন্ডেশন সহ ৫টি সংগঠন।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারী ) সকালে  চট্টগ্রাম বন্দর চত্বর আয়োজিত অবস্থান  ধর্মঘট ও মানববন্ধন বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক তৈরিকৃত স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্ল্যান ২০১৪ অনুযায়ী বন্দর মোহনা থেকে হালদা মোহনা পর্যন্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষা করে কর্ণফুলীর পূণ্য যৌবন ফিরে আনা হোক।

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ি ২০২০ সালের ৪ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৫ দিন অভিযান চালিয়ে ৩ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর কেন বাকি দুই হাজারের অধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি তা জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জনগণ জানতে চায়। সম্প্রতি কর্ণফুলী তীরে আবারও দখল কার্যক্রম চলমান থাকলেও জেলা প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।

 

বক্তারা আরো বলেন, ৯২ শতাংশ অর্থনীতির সঞ্চালক কর্ণফুলী নদীর সকল অবৈধ  স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদীর উভয় তীরে টিকে থাকা প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ৫৫৮ প্রকারের গাছ রক্ষা করতে হবে। শুধু তাই নয় হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২১৮১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার কারণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষকে আদালতের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, কর্ণফুলী দিন দিন দখল ও দূষণের কারণে ইতিমধ্যেই ৬৩ প্রকার নদীর মাছ ও প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। সম্প্রতি ইকো নামের একটি সংগঠনের গবেষণায় দেখা গেছে  বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে কাপ্তাই পর্যন্ত কর্ণফুলীর দুই তীরে ৫২৮ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে আছে। দূষণ ঠেকাতে উদ্যোগ না নিলে আরও ৬১ প্রজাতির উদ্ভিদ বিপন্ন হয়ে যাবে।

ইউনাইটেড সোস্যাল নেটওয়ার্ক’র নির্বাহী সাংবাদিক ও পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম পরিবেশে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আলীউর রহমান, মানববন্ধন সমাবেশে বক্তাব্য রাখেন,  সংগঠনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা চট্টগ্রাম সমন্বয়ক মনিরা পারভিন রুবা, আরকেএস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন জাহেদুল করিম বাপ্পি সিকদার, কৃষিবিদ কাজী গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

মানববন্ধন থেকে হুশিয়ারী করে বক্তারা বলেন, আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক তৈরিকৃত স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্ল্যান ২০১৪ অনুযায়ী বন্দর মোহনা থেকে হালদা মোহনা পর্যন্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কর্ণফুলীর নাব্যতা সংরক্ষণ করা না হয় আগামী শুক্রবার ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে চাক্তাই খালের মোহনায় লাগাতার ভাবে অবস্থান কর্মসূচী পালনের ঘোষণা করা হয়।