ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: ছয় দফা দাবিতে উত্তাল জবি

আরাফাতুল হক চৌধুরী, জবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে এর পেছনে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর বাহাদুর শাহ পার্ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ঘুরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। সেসময় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং দাবি বাস্তবায়নে ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে-ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে;অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা; দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার; ভিক্টিমের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপিড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।
বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিভ বলেন,ফাইরুজ অবন্তিকা আপু অসাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানাবিধ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানে অবন্তিকা আপুও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর জন্য তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। তাও তিনি পিছপা হয়নি। কিন্তু তারই এমন করুণ পরিণতি আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা। বিষয়টির সাথে যারা জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সকল ভাই-বোনদের জন্য নিরাপদ করে তুলবো আমরা। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বোনের এমন পরিণতিতে যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
এদিকে শনিবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযুক্ত রায়হান সিদ্দিকি আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস. এম. মাসুম বিল্লাহ বলেন, আগামীকাল তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৬:২৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪
৭৭ বার পড়া হয়েছে

জবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: ছয় দফা দাবিতে উত্তাল জবি

আপডেট সময় ০৬:২৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে এর পেছনে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর বাহাদুর শাহ পার্ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ ঘুরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। সেসময় একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে দাঁড়িয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং দাবি বাস্তবায়নে ১২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে-ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে;অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা; দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার; ভিক্টিমের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপিড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।
বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইভান তাহসিভ বলেন,ফাইরুজ অবন্তিকা আপু অসাধারণ শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানাবিধ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে জবি শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরাকে মুক্তির জন্য যে আন্দোলন হয়েছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেখানে অবন্তিকা আপুও নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর জন্য তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। তাও তিনি পিছপা হয়নি। কিন্তু তারই এমন করুণ পরিণতি আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারিনা। বিষয়টির সাথে যারা জড়িত সবার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সকল ভাই-বোনদের জন্য নিরাপদ করে তুলবো আমরা। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমাদের বোনের এমন পরিণতিতে যারা দায়ী তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।
এদিকে শনিবার সকালে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযুক্ত রায়হান সিদ্দিকি আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস. এম. মাসুম বিল্লাহ বলেন, আগামীকাল তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।