ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

টাকা ভাগাভাগির জটিলতায় বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা লাশ ৭২ ঘন্টা পর দাফন

মোঃ মাসুদ রানা, গাইবান্ধা

 

মরেও শান্তি পাচ্ছেনা মোতাহার হোসেন মুন্সি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভাই-ভাতিজার দ্বন্দ্বে বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে মোতাহার হোসেন মুন্সির নিথর দেহ।

 

স্থানীয়রা পুলিশকে জানান, মোতাহার হোসেন মুন্সী (৭৫) ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় থাকতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। কিছুদিন আগে মোতাহার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। তাই তার ঢাকায় থাকা এক খন্ড জমি তিনি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

 

এরপর গত এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতা বেশি হওয়ায় তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি)তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর পরদিন মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য এম্বুলেন্স যোগে পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে আনেন তার স্ত্রী।

 

পরে ওই মরদেহ দাফনে বাধা দেয় মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিব মেম্বরসহ পারিবারের কয়েকজন। এ সময় তারা মাসুমা বেগমের কাছে মোতাহার আলীর কাছে থাকা জমি বিক্রির ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে জমা আছে তা জানতে চান।

 

এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে লাশ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লাশ দাফন না হওয়ার ঘটনা জানতে পারেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার(২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈঠক করে উভয়কে নিয়ে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা নামাজ শেষে মোতাহার আলীর লাশ দাফন করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
৯৩ বার পড়া হয়েছে

টাকা ভাগাভাগির জটিলতায় বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা লাশ ৭২ ঘন্টা পর দাফন

আপডেট সময় ১০:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

মরেও শান্তি পাচ্ছেনা মোতাহার হোসেন মুন্সি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ভাই-ভাতিজার দ্বন্দ্বে বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে মোতাহার হোসেন মুন্সির নিথর দেহ।

 

স্থানীয়রা পুলিশকে জানান, মোতাহার হোসেন মুন্সী (৭৫) ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান। তার স্ত্রী মাসুমা বেগমকে নিয়ে তিনি ধানমন্ডির কলাবাগান এলাকায় থাকতেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। কিছুদিন আগে মোতাহার হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। তাই তার ঢাকায় থাকা এক খন্ড জমি তিনি দুই কোটি ১৮ লাখ টাকায় বিক্রি করেন।

 

এরপর গত এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতা বেশি হওয়ায় তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি)তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর পরদিন মোতাহার হোসেনের মরদেহ দাফনের জন্য এম্বুলেন্স যোগে পলাশবাড়ী উপজেলার সাকোয়া মাঝিপাড়া গ্রামে আনেন তার স্ত্রী।

 

পরে ওই মরদেহ দাফনে বাধা দেয় মোতাহার হোসেনের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম মুন্সী ও তার ভাতিজা হাবিব মেম্বরসহ পারিবারের কয়েকজন। এ সময় তারা মাসুমা বেগমের কাছে মোতাহার আলীর কাছে থাকা জমি বিক্রির ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা কোথায় কোন ব্যাংকে জমা আছে তা জানতে চান।

 

এ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে লাশ নিজ বাড়ির উঠানে পড়ে থাকে। স্থানীয়রা চেষ্টা করেও দ্বন্দ্বের নিরসন করতে পারেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে লাশ দাফন না হওয়ার ঘটনা জানতে পারেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পলাশবাড়ী থানা পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার(২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈঠক করে উভয়কে নিয়ে একটি সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তাদের উপস্থিতিতে নিজ বাড়ির উঠানে জানাজা নামাজ শেষে মোতাহার আলীর লাশ দাফন করা হয়।