ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

মোঃ সাহাদাৎ হোসেন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কালো ব্যাজ ধারণ করার মধ্যদিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে ক্যাম্পাসে ‘বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য’ ও ‘চির উন্নত মম শির’-এ ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মচারী সমিতি (১১-১৬),পরিবহন দপ্তর, অগ্নি-বীণা হল, দোলন-চাঁপা হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব হলসহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের পক্ষ থেকে ফুল দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড.জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রামিম আল করিমসহ অন্যরা।

এরপর দুপুরে দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।
মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির অবদান অপরিসীম মন্তব্য করে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধুই দুটো পক্ষের সেনাবাহিনী বা অস্ত্রধারীদের মধ্যে লড়াই ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর জনমত তৈরি করেছেন। পাকিস্তানীদের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদের সাথে জনসভা পথসভায় বক্তৃতা দিয়ে বলে বলে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কথা শুনেছেন। মূলত একটা জনযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জনযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা অংশ নিয়েছিললে তারা কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। তারা শুধুই অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী নন। ছাত্র,শিক্ষক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ নানা জায়গার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। মূলত বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন। এবং নয়মাসের লড়াইয়ে ভেতরে থেকে ইন্ধন দিয়েছেন।

 


উপাচার্য বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগের প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু সবসময় বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সঙ্গে মিশতেন। তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তাঁর বঙ্গভবনের দরজা বুদ্ধিজীবীদের জন্য সবসময় খোলা ছিল।

বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের বিচারের দাবি তুলে ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, এ ধরনের হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত ছিল সেসব ঘৃণিতদের খুঁজে বের করে যাদের বিচার হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং যাদের এখনো বিচার হয় নি তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। কেননা জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যা করে এই বাংলাদেশকে বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। বক্তব্যে সুজেয় শ্যাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কিছু ঘটনা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে নিজের কিছু দু:খবোধের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকে আমার দু:খ হলো ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে গেল তাদের কী আমরা মনে রেখেছি। কয়জন মনে রাখে। যে দেশের কিছু মানুষ স্বাধীনতা ভুলে গেছে, বঙ্গবন্ধুকে ভুলে গেছে এ দেশকে আপনারা কী বলবেন। শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের খোঁজ রাখেন। বিশেষ করে শিল্পীদের তিনিই বাঁচিয়ে রেখেছেন। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রাক্কালে তাকে সম্মানিত করায় তিনি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিও তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, আলোচনা করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি (গ্রেড১১-১৬) মো. কামরুজ্জামানসহ অন্যরা। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য-সচিব ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ।

এর আগে দিবসটির প্রথম প্রহরে শহিদদের স্মরণে রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’ ভাস্কর্যের বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এরপর শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, ৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নিহত শহিদদের, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদদের, একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, নিহত বুদ্ধিজীবীসহ, জাতীয় চারনেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

উপাচার্য বলেন, বুদ্ধিজীবীরা জাতির পথ প্রদর্শক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সবসময় বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করতেন। বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। রাজনৈতিক সংকট যখন হতো তখন তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। বুদ্ধিজীবীরা আমাদের পাকিস্তান আমলের স্বাধীকার আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:২০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩
৩৯ বার পড়া হয়েছে

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

আপডেট সময় ০১:২০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কালো ব্যাজ ধারণ করার মধ্যদিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে ক্যাম্পাসে ‘বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য’ ও ‘চির উন্নত মম শির’-এ ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মচারী সমিতি (১১-১৬),পরিবহন দপ্তর, অগ্নি-বীণা হল, দোলন-চাঁপা হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব হলসহ বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের পক্ষ থেকে ফুল দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, প্রক্টর সঞ্জয় কুমার মুখার্জী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড.জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রামিম আল করিমসহ অন্যরা।

এরপর দুপুরে দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।
মুক্তিযুদ্ধের বুদ্ধিজীবী শ্রেণির অবদান অপরিসীম মন্তব্য করে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুধুই দুটো পক্ষের সেনাবাহিনী বা অস্ত্রধারীদের মধ্যে লড়াই ছিল না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন। পাকিস্তান আমলের ২৩ বছর জনমত তৈরি করেছেন। পাকিস্তানীদের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদের সাথে জনসভা পথসভায় বক্তৃতা দিয়ে বলে বলে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছেন। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের কথা শুনেছেন। মূলত একটা জনযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জনযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যারা অংশ নিয়েছিললে তারা কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। তারা শুধুই অস্ত্রধারী সেনাবাহিনী নন। ছাত্র,শিক্ষক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ নানা জায়গার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। মূলত বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন। এবং নয়মাসের লড়াইয়ে ভেতরে থেকে ইন্ধন দিয়েছেন।

 


উপাচার্য বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগের প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে বুদ্ধিজীবীদের অবদান অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু সবসময় বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সঙ্গে মিশতেন। তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তাঁর বঙ্গভবনের দরজা বুদ্ধিজীবীদের জন্য সবসময় খোলা ছিল।

বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের বিচারের দাবি তুলে ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, এ ধরনের হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত ছিল সেসব ঘৃণিতদের খুঁজে বের করে যাদের বিচার হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং যাদের এখনো বিচার হয় নি তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক। কেননা জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যা করে এই বাংলাদেশকে বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম। বক্তব্যে সুজেয় শ্যাম মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কিছু ঘটনা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে নিজের কিছু দু:খবোধের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকে আমার দু:খ হলো ত্রিশ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে গেল তাদের কী আমরা মনে রেখেছি। কয়জন মনে রাখে। যে দেশের কিছু মানুষ স্বাধীনতা ভুলে গেছে, বঙ্গবন্ধুকে ভুলে গেছে এ দেশকে আপনারা কী বলবেন। শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের খোঁজ রাখেন। বিশেষ করে শিল্পীদের তিনিই বাঁচিয়ে রেখেছেন। শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের প্রাক্কালে তাকে সম্মানিত করায় তিনি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিও তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, আলোচনা করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি (গ্রেড১১-১৬) মো. কামরুজ্জামানসহ অন্যরা। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য-সচিব ড. মোহাম্মদ মেহেদী উল্লাহ।

এর আগে দিবসটির প্রথম প্রহরে শহিদদের স্মরণে রাত ১২টা ১ মিনিটে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘চির উন্নত মম শির’ ভাস্কর্যের বেদীতে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এরপর শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, ৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট নিহত শহিদদের, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদদের, একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ, নিহত বুদ্ধিজীবীসহ, জাতীয় চারনেতাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

উপাচার্য বলেন, বুদ্ধিজীবীরা জাতির পথ প্রদর্শক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সবসময় বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করতেন। বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। রাজনৈতিক সংকট যখন হতো তখন তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। বুদ্ধিজীবীরা আমাদের পাকিস্তান আমলের স্বাধীকার আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।