ঢাকা ০৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

‘শিক্ষার্থীর মতামত’

নতুন বছরে কেমন ক্যাম্পাস চান ইবি শিক্ষার্থীরা

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি

নতুন বছরে নতুন রঙে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায়। পুরোনো বছরের অপ্রাপ্তিগুলো কাটিয়ে নতুন আশা প্রত্যাশায় বুক বাঁধে সবাই।

নতুন বছরে শিক্ষার্থীরা কেমন ক্যাম্পাস চান – এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সেশনের শিক্ষার্থীদের কাছে। নতুন বছরে ক্যাম্পাস নিয়ে আশা-প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন ‘দেশবার্তা২৪নিউজ’ এর নিজস্ব প্রতিবেদক ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি।

 

লাইব্রেরীর উন্মুক্ত ব্যবহারের সুযোগ চাই

স্বাধীনতার পর প্রথম স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৪৫ বছর পরেও এর গতানুগতিক ধারা বদলায় নি। এখনো বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শিকার হয়। একই বিভাগে অনেক বছর থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকায় থাকে। যার দরুণ সেইসব বিভাগে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতেও ভয় পায়। এর পেছনের মূল কারণ শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষকদের তৎপরতার অভাব। এছাড়া লাইব্রেরিতে অন্যান্যা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল। উদাহরণস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা যায়; সেখানের লাইব্রেরীতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যেতে পারে, লাইব্রেরী থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বই নিয়ে পড়তে পারে আবার নিজস্ব বই ও নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী তার নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি এখান চাকরির প্রস্তুতিমূলক কোন বইও পাওয়া যায় না। উপরন্তু, আমাদের লাইব্রেরী সন্ধ্যার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যা সম্পূর্ণ বেমানান। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরীতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরে তাই চাওয়া থাকবে শিক্ষার্থীদের উন্মুক্তভাবে লাইব্রেরী ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হোক।

তাসফিয়া তানিয়া
ফার্মেসি বিভাগ

“পরিবহন জটিলতার সমাধান চাই”

কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে আমাদের ক্যাম্পাসের অবস্থান।ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু অসুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবহন জটিলতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশ কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের যে কোন প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কুষ্টিয়া কিংবা ঝিনাইদহ শহরে যেতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহনের জন্য নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস। যে বাসগুলো রয়েছে সেখানে সিট ধরা নিয়ে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রায়শই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনগুলোতে এই সমস্যা আরো চরম আকার ধারণ করে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেককেই বাধ্য হয়ে অস্বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়। নতুন বছরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পরিবহন জটিলতা কাটিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত ব্যবস্থা চাই। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা করা হোক যাতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ হয়।

মোঃ হাবিবুর রহমান
আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

সেশনজট মুক্ত ক্যাম্পাস চাই

দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইবি। নানান প্রত্যাশা পূরণ হলেও এখনো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। তারমধ্যে সেশনজট অন্যতম। বর্তমান সময়ে সেশনজট অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কাছে, যারা পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দিনরাত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করে। দেখা গেছে অনেক বিভাগ করোনা মহামারী, শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার দোহাই দিয়ে চার বছরের অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে ছয় বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করে। সেশনজটের গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন সময় দাবী উঠলেও এখনো তেমন সুফল পাওয়া যায় নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে প্রিয় ক্যাম্পাস যেনো সেশনজট মুক্ত ক্যাম্পাসে পরিনত হয়।

সাইফুল ইসলাম
লোক প্রশাসন বিভাগ

 

চাই গুণগত মানোন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ

নতুন বছরে সার্বিক দিক বিবেচনায় ক্যাম্পাসের কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রায়শই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো হলে উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া, হলের ডাইনিং ও ক্যাম্পাসের ভেতরের দোকানের খাবারের মান উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিবিহীন রাস্তা পারাপার এবং পাবলিক বাসে ভাড়ার ভোগান্তি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদককে ‘না’ বলা এবং মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীকে মাদকের কুফল জানিয়ে সেবনে নিরুৎসাহিত করা, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। এতে শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সঞ্চিতা অধিকারী সোমা
বাংলা বিভাগ

মৌলিক সমস্যা সমাধানে নজর দিতে হবে

শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের সমুদ্র, যেখানে নিরাপদে গবেষণা, মুক্ত চিন্তা, গণতন্ত্র চর্চা, সংস্কৃতি চর্চা সহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সময় পার করবে। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে ক্যাম্পাসের মৌলিক যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধানে নজর দেয়া হয়। যেমন হলের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না বা খাবারের পোকামাকড় পাওয়া একটি নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া মাদক সমস্যা ইবিতে দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর ব্যাপকতা রোধে এখনই সোচ্চার হতে হবে। নতুন বছরে মাদক সমস্যার সমাধান করে ইবি ক্যাম্পাস যেন সারা বাংলাদেশে রোল মডেল হয়ে ওঠে এর জন্য কাজ করতে হবে। এজন্য শুধু প্রশাসন নয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সকলকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষার আধুনিকায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরো গঠনমূলক কাজ করবে। যেমন আরো বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা করা, লাইব্রেরীর আধুনিকায়ন করা, গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং ক্লাসরুম ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধি করা।

সোহানুর রহমান
ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে চাই নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস

ক্যালেন্ডার পাতা পাল্টাতে পাল্টাতে আরেকটি বছর উঁকি দিতে যাচ্ছে। নতুন বছরে চাওয়া পাওয়া নতুনত্বকে ঘিরেই। নতুনকে আমন্ত্রণ জাননোর সাথে সাথে আর পাঁচজন শিক্ষার্থীর মতো আমিও চাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বছরে মঙ্গলজনক কিছু হোক। সহিংসতা, নৃশংসতা, রক্তাক্তের মতো নির্মম ঘটনা না ঘটুক। মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস , তরুণবান্ধব পরিবেশ, শিক্ষার মানের উন্নয়ন তথা দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়ই নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।
এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। একটি মেয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঘরের গন্ডি পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করে। কিন্তু ইভটিজিং-এর মতো কিছু ব্যাধির কারণে তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে কেউ কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, কেও ঝরে পড়ে। অনেক সময় আত্মসম্মানের ভয়, দুশ্চিয়, নোংরা শব্দ ও অশালীন দৃষ্টি সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নতুন বছরে তাই নিরাপদ ও ইভটিজিং মুক্ত ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা আমাদের সবার।

সাদিয়া আফরিন অমিন্তা
জার্নালিজম বিভাগ

সবুজ ক্যাম্পাস চাই

শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার মতো বছরের প্রতিটা দিন ঝরে যায়। শুরু হয় নতুন বছর। পুরানো বছরের অপূর্ণ প্রত্যাশা, অপ্রাপ্তি নিয়ে পদার্পন করে নতুন বছরে। গত বছরের অপূর্ণ প্রত্যাশার সাথে যোগ হয় নতুন নতুন আরো প্রত্যাশা,আবদার। নতুন বছরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজেকে নিয়ে যেমনিভাবে নতুন নতুন প্রত্যাশা রয়েছে তেমনিভাবে নিজ দেশ,সমাজ ও প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আমি বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। ইবির সৌন্দর্য সবসময়ই মুগ্ধ করে আসছে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদেরকে। ক্যাম্পাস মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথে সবুজ ডায়না চত্বর স্বাগতম জানায় দর্শনার্থীদেরকে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ। তবে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমানে গাছ কাটা হয়েছে। যে পরিমাণে গাছ কাটা হয়েছে সে তুলনায় নতুন গাছ লাগানো হয়নি। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা নিতান্ত কম। নতুন বছরে অপূর্ণ প্রত্যাশার সাথে আরো একটি প্রত্যাশা হলো ক্যাম্পাসকে সবুজ ক্যাম্পাসে রুপান্তর করা হোক।

আতিকুর রহমান
দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই

৪৫ পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬ এ পা দিলেও আজও যেন সেই নব্বই দশকের অবস্থায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি খুবই সুন্দর সাজানো, গোছানো। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ‘well decorated’। কিন্তু তাতে কি লাভ যদি শিক্ষার্থীদের মনের বিকাশ না ঘটে। সান্ধ্যকালীন আইন – প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে হতাশার ডাক । সন্ধ্যা না হতেই ক্যাম্পাস শুনশান নিরব হয়ে যায় । যার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস বিমুখতা। আমাদের টিএসসিতে মাঝে মাঝে কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সংস্কৃতি চর্চা করতে দেখা গেলেও কদর না থাকায় দিন শেষে তারাও হতাশ। প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক দিয়েও আমরা পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা অপ্রতুল। বায়োমেট্রিক বা পাঞ্চ কার্ডের বদলে আমরা আটকে আছি হাজিরা খাতায়। এছাড়া দিনব্যাপী ক্লাস-পরীক্ষা শেষে রাতে একটু শরীর চর্চ্চা, খেলাধুলা করতে জিমনেশিয়ামে যেতে চাইলেও তা বন্ধ হয়ে যায় সন্ধ্যা বেলায়। ফলে রিফ্রেশমেন্ট আর হয় না। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আমাদের ক্যাম্পাসে এমনি গরম পড়ে। জিমনেশিয়ামের পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গ্রীষ্মকালে খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করতে অনুৎসাহী থাকে। নতুন বছরে আমার একটাই চাওয়া আধুনিকতার সাথে, উন্নত বিশ্বের সাথে যেন আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সে উপযোগী একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই।

শেখ সালাউদ্দিন সাকিব
বিভাগ : হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস চাই

নতুন বছরের সবারই ইচ্ছা থাকে প্রিয় ক্যাম্পাস কে নতুন করে দেখার। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে নতুন বছরে প্রিয় ক্যাম্পাসকে নতুনরূপে দেখতে চাই। নতুন বছরে যেন আরো সুন্দর রুপ ধারণ করে সবুজ শ্যামল এই ক্যাম্পাস সেজন্য কিছু উন্নতি দেখতে চাই। ক্যাম্পাস এর আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশ দিয়ে হাটলে মাঝে মধ্যেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাস্তার পাশে ডাস্টবিন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করা সত্বেও প্রায়শই অপরিচ্ছন্ন দেখা যায়। ডাস্টবিন এর তলা ময়লায় পুর্ণ না হলেও আশপাশটা পুর্ণ হয় ঠিকই। অডিটোরিয়ামের সামনে খেলার মাঠের এক প্রান্তে গর্তে যখন পা পড়ে যায় তখন খেয়াল করি আশপাশে ঝালমুড়ির কার্ড পরে আছে। যদিও ঝালমুড়ি মামা একটা ঝুড়ি রাখে উচ্ছিষ্ট ফেলার জন্য। ঝালচত্বর আর বটতলার মাঝের রাস্তায় দুটো ডাস্টবিন থাকলেও হাটতে গেলে ওয়ান টাইম ইউজড চায়ের কাপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে ক্যাম্পাসে আমাদের প্রানের স্পন্দন সেই প্রানপ্রিয় ইবি ক্যাম্পাসকে নতুন বছরে আরো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর রুপে দেখতে চাই।

মাহপারা মিনতি
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪
৪০১ বার পড়া হয়েছে

‘শিক্ষার্থীর মতামত’

নতুন বছরে কেমন ক্যাম্পাস চান ইবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় ০৭:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৪

নতুন বছরে নতুন রঙে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায়। পুরোনো বছরের অপ্রাপ্তিগুলো কাটিয়ে নতুন আশা প্রত্যাশায় বুক বাঁধে সবাই।

নতুন বছরে শিক্ষার্থীরা কেমন ক্যাম্পাস চান – এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সেশনের শিক্ষার্থীদের কাছে। নতুন বছরে ক্যাম্পাস নিয়ে আশা-প্রত্যাশা, চিন্তা-ভাবনার কথা জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশার কথা জানাচ্ছেন ‘দেশবার্তা২৪নিউজ’ এর নিজস্ব প্রতিবেদক ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি।

 

লাইব্রেরীর উন্মুক্ত ব্যবহারের সুযোগ চাই

স্বাধীনতার পর প্রথম স্থাপিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৪৫ বছর পরেও এর গতানুগতিক ধারা বদলায় নি। এখনো বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের শিকার হয়। একই বিভাগে অনেক বছর থাকার কারনে শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকায় থাকে। যার দরুণ সেইসব বিভাগে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতেও ভয় পায়। এর পেছনের মূল কারণ শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষকদের তৎপরতার অভাব। এছাড়া লাইব্রেরিতে অন্যান্যা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচল। উদাহরণস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলা যায়; সেখানের লাইব্রেরীতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যেতে পারে, লাইব্রেরী থেকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বই নিয়ে পড়তে পারে আবার নিজস্ব বই ও নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী তার নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। এমনকি এখান চাকরির প্রস্তুতিমূলক কোন বইও পাওয়া যায় না। উপরন্তু, আমাদের লাইব্রেরী সন্ধ্যার মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যা সম্পূর্ণ বেমানান। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরীতে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরে তাই চাওয়া থাকবে শিক্ষার্থীদের উন্মুক্তভাবে লাইব্রেরী ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হোক।

তাসফিয়া তানিয়া
ফার্মেসি বিভাগ

“পরিবহন জটিলতার সমাধান চাই”

কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে আমাদের ক্যাম্পাসের অবস্থান।ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের কিছু অসুবিধার মধ্যে অন্যতম হলো পরিবহন জটিলতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশ কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রাম অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থীদের যে কোন প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কুষ্টিয়া কিংবা ঝিনাইদহ শহরে যেতে হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহনের জন্য নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক বাস। যে বাসগুলো রয়েছে সেখানে সিট ধরা নিয়ে চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রায়শই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ছুটির দিনগুলোতে এই সমস্যা আরো চরম আকার ধারণ করে। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেককেই বাধ্য হয়ে অস্বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়। নতুন বছরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পরিবহন জটিলতা কাটিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত ব্যবস্থা চাই। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের ব্যবস্থা করা হোক যাতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা নিরাপদ হয়।

মোঃ হাবিবুর রহমান
আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

সেশনজট মুক্ত ক্যাম্পাস চাই

দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইবি। নানান প্রত্যাশা পূরণ হলেও এখনো বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। তারমধ্যে সেশনজট অন্যতম। বর্তমান সময়ে সেশনজট অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কাছে, যারা পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দিনরাত পরিশ্রম করে পড়াশোনা করে। দেখা গেছে অনেক বিভাগ করোনা মহামারী, শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার দোহাই দিয়ে চার বছরের অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে ছয় বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করে। সেশনজটের গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন সময় দাবী উঠলেও এখনো তেমন সুফল পাওয়া যায় নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে প্রিয় ক্যাম্পাস যেনো সেশনজট মুক্ত ক্যাম্পাসে পরিনত হয়।

সাইফুল ইসলাম
লোক প্রশাসন বিভাগ

 

চাই গুণগত মানোন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ

নতুন বছরে সার্বিক দিক বিবেচনায় ক্যাম্পাসের কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রায়শই ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো হলে উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করা বা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া, হলের ডাইনিং ও ক্যাম্পাসের ভেতরের দোকানের খাবারের মান উন্নত করার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিবিহীন রাস্তা পারাপার এবং পাবলিক বাসে ভাড়ার ভোগান্তি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদককে ‘না’ বলা এবং মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীকে মাদকের কুফল জানিয়ে সেবনে নিরুৎসাহিত করা, প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা বাড়াতে হবে। এতে শিক্ষার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সঞ্চিতা অধিকারী সোমা
বাংলা বিভাগ

মৌলিক সমস্যা সমাধানে নজর দিতে হবে

শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের সমুদ্র, যেখানে নিরাপদে গবেষণা, মুক্ত চিন্তা, গণতন্ত্র চর্চা, সংস্কৃতি চর্চা সহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সময় পার করবে। নতুন বছরে প্রত্যাশা থাকবে ক্যাম্পাসের মৌলিক যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধানে নজর দেয়া হয়। যেমন হলের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না বা খাবারের পোকামাকড় পাওয়া একটি নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া মাদক সমস্যা ইবিতে দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর ব্যাপকতা রোধে এখনই সোচ্চার হতে হবে। নতুন বছরে মাদক সমস্যার সমাধান করে ইবি ক্যাম্পাস যেন সারা বাংলাদেশে রোল মডেল হয়ে ওঠে এর জন্য কাজ করতে হবে। এজন্য শুধু প্রশাসন নয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন সকলকে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে শিক্ষার আধুনিকায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরো গঠনমূলক কাজ করবে। যেমন আরো বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা করা, লাইব্রেরীর আধুনিকায়ন করা, গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং ক্লাসরুম ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধি করা।

সোহানুর রহমান
ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে চাই নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস

ক্যালেন্ডার পাতা পাল্টাতে পাল্টাতে আরেকটি বছর উঁকি দিতে যাচ্ছে। নতুন বছরে চাওয়া পাওয়া নতুনত্বকে ঘিরেই। নতুনকে আমন্ত্রণ জাননোর সাথে সাথে আর পাঁচজন শিক্ষার্থীর মতো আমিও চাই আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বছরে মঙ্গলজনক কিছু হোক। সহিংসতা, নৃশংসতা, রক্তাক্তের মতো নির্মম ঘটনা না ঘটুক। মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস , তরুণবান্ধব পরিবেশ, শিক্ষার মানের উন্নয়ন তথা দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব বিষয়ই নতুন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।
এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য একটি নিরাপদ ক্যাম্পাসের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। একটি মেয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঘরের গন্ডি পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পদার্পণ করে। কিন্তু ইভটিজিং-এর মতো কিছু ব্যাধির কারণে তাদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শিক্ষাজীবনের ইতি টেনে কেউ কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, কেও ঝরে পড়ে। অনেক সময় আত্মসম্মানের ভয়, দুশ্চিয়, নোংরা শব্দ ও অশালীন দৃষ্টি সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নতুন বছরে তাই নিরাপদ ও ইভটিজিং মুক্ত ক্যাম্পাসের প্রত্যাশা আমাদের সবার।

সাদিয়া আফরিন অমিন্তা
জার্নালিজম বিভাগ

সবুজ ক্যাম্পাস চাই

শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার মতো বছরের প্রতিটা দিন ঝরে যায়। শুরু হয় নতুন বছর। পুরানো বছরের অপূর্ণ প্রত্যাশা, অপ্রাপ্তি নিয়ে পদার্পন করে নতুন বছরে। গত বছরের অপূর্ণ প্রত্যাশার সাথে যোগ হয় নতুন নতুন আরো প্রত্যাশা,আবদার। নতুন বছরে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজেকে নিয়ে যেমনিভাবে নতুন নতুন প্রত্যাশা রয়েছে তেমনিভাবে নিজ দেশ,সমাজ ও প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আমি বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ার সুবাদে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। ইবির সৌন্দর্য সবসময়ই মুগ্ধ করে আসছে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদেরকে। ক্যাম্পাস মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথে সবুজ ডায়না চত্বর স্বাগতম জানায় দর্শনার্থীদেরকে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ। তবে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমানে গাছ কাটা হয়েছে। যে পরিমাণে গাছ কাটা হয়েছে সে তুলনায় নতুন গাছ লাগানো হয়নি। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় গাছের সংখ্যা নিতান্ত কম। নতুন বছরে অপূর্ণ প্রত্যাশার সাথে আরো একটি প্রত্যাশা হলো ক্যাম্পাসকে সবুজ ক্যাম্পাসে রুপান্তর করা হোক।

আতিকুর রহমান
দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।

স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই

৪৫ পেরিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪৬ এ পা দিলেও আজও যেন সেই নব্বই দশকের অবস্থায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি খুবই সুন্দর সাজানো, গোছানো। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ‘well decorated’। কিন্তু তাতে কি লাভ যদি শিক্ষার্থীদের মনের বিকাশ না ঘটে। সান্ধ্যকালীন আইন – প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে হতাশার ডাক । সন্ধ্যা না হতেই ক্যাম্পাস শুনশান নিরব হয়ে যায় । যার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস বিমুখতা। আমাদের টিএসসিতে মাঝে মাঝে কয়েকজন প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সংস্কৃতি চর্চা করতে দেখা গেলেও কদর না থাকায় দিন শেষে তারাও হতাশ। প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক দিয়েও আমরা পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধা অপ্রতুল। বায়োমেট্রিক বা পাঞ্চ কার্ডের বদলে আমরা আটকে আছি হাজিরা খাতায়। এছাড়া দিনব্যাপী ক্লাস-পরীক্ষা শেষে রাতে একটু শরীর চর্চ্চা, খেলাধুলা করতে জিমনেশিয়ামে যেতে চাইলেও তা বন্ধ হয়ে যায় সন্ধ্যা বেলায়। ফলে রিফ্রেশমেন্ট আর হয় না। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আমাদের ক্যাম্পাসে এমনি গরম পড়ে। জিমনেশিয়ামের পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গ্রীষ্মকালে খেলোয়াড়রা খেলাধুলা করতে অনুৎসাহী থাকে। নতুন বছরে আমার একটাই চাওয়া আধুনিকতার সাথে, উন্নত বিশ্বের সাথে যেন আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সে উপযোগী একটি স্মার্ট ক্যাম্পাস চাই।

শেখ সালাউদ্দিন সাকিব
বিভাগ : হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস চাই

নতুন বছরের সবারই ইচ্ছা থাকে প্রিয় ক্যাম্পাস কে নতুন করে দেখার। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে নতুন বছরে প্রিয় ক্যাম্পাসকে নতুনরূপে দেখতে চাই। নতুন বছরে যেন আরো সুন্দর রুপ ধারণ করে সবুজ শ্যামল এই ক্যাম্পাস সেজন্য কিছু উন্নতি দেখতে চাই। ক্যাম্পাস এর আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশ দিয়ে হাটলে মাঝে মধ্যেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাস্তার পাশে ডাস্টবিন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করা সত্বেও প্রায়শই অপরিচ্ছন্ন দেখা যায়। ডাস্টবিন এর তলা ময়লায় পুর্ণ না হলেও আশপাশটা পুর্ণ হয় ঠিকই। অডিটোরিয়ামের সামনে খেলার মাঠের এক প্রান্তে গর্তে যখন পা পড়ে যায় তখন খেয়াল করি আশপাশে ঝালমুড়ির কার্ড পরে আছে। যদিও ঝালমুড়ি মামা একটা ঝুড়ি রাখে উচ্ছিষ্ট ফেলার জন্য। ঝালচত্বর আর বটতলার মাঝের রাস্তায় দুটো ডাস্টবিন থাকলেও হাটতে গেলে ওয়ান টাইম ইউজড চায়ের কাপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে ক্যাম্পাসে আমাদের প্রানের স্পন্দন সেই প্রানপ্রিয় ইবি ক্যাম্পাসকে নতুন বছরে আরো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সুন্দর রুপে দেখতে চাই।

মাহপারা মিনতি
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ