ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভাইবা নেয়া হয়নি ইবি ছাত্রীর

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষায় নেকাব খুলে মুখমণ্ডল প্রদর্শন করতে বলায় ভাইবায় অংশ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা মুবাশশিরা তুবা। এতে এখন পর্যন্ত তার ভাইবা নেয়নি শিক্ষকরা৷

 

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর বিভাগটির ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষার ভাইভায় নেকাব পরে অংশ নেয় ওই ছাত্রী। এ সময় ভাইভা বোর্ডের শিক্ষকরা তার পরিচয় নিশ্চিতের জন্য নেকাব খুলতে বলেন। এ সময় তিনি নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজনে নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ভাইবা বোর্ডের অন্যান্য শিক্ষকরা আপত্তি জানানোয় আর ওই ছাত্রীর ভাইবা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ১৩ ডিসেম্বর আমাদের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ভাইবা ছিলো। আমি আগে থেকেই নেকাব করি তো ওইদিনও নেকাব করেই ভাইবায় গিয়েছিলাম। ভাইবা বোর্ডের স্যাররা আমাকে পরিচয় নিশ্চিতের জন্য নেকাব খুলতে বলেন। নেকাব না খুললে ভাইবা দিতে দিবে না। তখন আমি নেকাব খুলতে অসম্মতি জানাই। একজন ম্যাম উপস্থিত থাকায় আইডিন্টিফিকেশনের জন্য নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে বলেছিলাম। কিন্তু বোর্ডের স্যাররা রাজি না হওয়ায় আমার ভাইবা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরো বলেন, শিক্ষকরা এমনও বলছে যে নেকাব না খুললে ভাইবা নিতে দিবে না এবং এজন্য পরীক্ষায় ফেইলও করতে পারি। আমি বারবার অনুরোধ করার পরও স্যাররা এ বিষয়ে সম্মত হননি। স্যারদের মূলত উদ্দেশ্য ছিলো যেনো আমি নেকাব খুলে ভাইবা দেই। তাদের পরিচয় শনাক্তকরণের কোনো ইনটেনশন ই ছিলো না।

এ বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাইবা বোর্ডে তাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান থেকে একাধিকবার বোঝানো হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ২৫ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় এসেও সে নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানায়৷ পরবর্তীতে আমরা তার বাবাকেও ইনফর্ম করি, তিনি তার সন্তানকে আরেকটি সুযোগ দিতে বলেন। সে অনুযায়ী ক্যাম্পাস খোলার পর ১৭ জানুয়ারি সে ৩ জন বান্ধুবি নিয়ে ভাইবা দিতে এলেও পরিচয় শনাক্তে আবারো অস্বীকৃতি জানায়। সেদিনও সে চাইলে ভাইভা দিতে পারতো কিন্তু সে রাজি না হওয়ায় তার ভাইবা নেওয়া হয়নি।

বিভাগের সভাপতি শিমুল রায় বলেন, রেজাল্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার ভাইবা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি কিন্তু তাকে রাজি করিয়ে ভাইবা নিতে পারিনি। আমরা তাকে বলেছিলাম যে ভবিষ্যতে বিভাগীয়, চাকরিসহ অন্যান্য পরীক্ষায় তাকে পরিচয় শনাক্ত করেই ভাইবা দিতে হবে। অন্যান্য গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি এসেছে, আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই তেমনভাবে তার নেকাব খোলানো ছিল না। আমাদের উদ্দেশ্য ই ছিল তাকে আমাদের স্টুডেন্ট হিসেবে শনাক্ত করা।

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি উম্মে সালমা লুনা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা তো এডমিশন টেস্টে মুখ, কান খুলেই এক্সাম দিয়েছেন। আমাদের ক্লাসরুমেও অনেক শিক্ষার্থী নেকাব করেন, আমরা কখনোই তাদের বিরূপ কিছু বলি না। এখন, ভাইবার দিন ওই শিক্ষার্থীকে দুই দফায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বোঝানো হয়েছে। কিন্তু সে রাজি হয়নি। যদি বোর্ডে কোন নারী শিক্ষক না থাকতো তবে সে কি করতো। ভাইবা বোর্ডের বাকিদের আপত্তি থাকায় নারী শিক্ষিকা হিসেবে আমার একার কিছু করার ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে আমরা তাদের সবসময়ই সম্মান করি। তবে চাকরির পরীক্ষা বলেন আর কোনো ফ্যাকাল্টির পরীক্ষা ই হোক না কেন, ভাইবায় তাকে শনাক্তযোগ্য হিসেবেই থাকতে হবে। অনেকে আছে যারা নারী শিক্ষিকা ছাড়া মুখ খুলতে চায় না সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষিকা দিয়ে শনাক্ত করানো হবে। এইজন্য যে আমরা পরীক্ষাই নিবো না বা পরীক্ষা নেয়া যাবে না এমন কোন বিষয় না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ভাইবা বোর্ডে এধরণের কাজটি করা উচিত হয়নি। আমাদের অনেক সময় এরকম শিক্ষার্থীরা থাকে যারা নেকাব করে। আমরা সবসময়ই নারী শিক্ষকের মাধমে তাদের শনাক্ত করেছি। ওই ক্ষেত্রেও এমনটা করা যেতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে গেলে উক্ত শিক্ষকদের পেনাল্টি হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪
১১৫ বার পড়া হয়েছে

নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভাইবা নেয়া হয়নি ইবি ছাত্রীর

আপডেট সময় ০৭:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রথম বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষায় নেকাব খুলে মুখমণ্ডল প্রদর্শন করতে বলায় ভাইবায় অংশ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা মুবাশশিরা তুবা। এতে এখন পর্যন্ত তার ভাইবা নেয়নি শিক্ষকরা৷

 

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর বিভাগটির ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষার ভাইভায় নেকাব পরে অংশ নেয় ওই ছাত্রী। এ সময় ভাইভা বোর্ডের শিক্ষকরা তার পরিচয় নিশ্চিতের জন্য নেকাব খুলতে বলেন। এ সময় তিনি নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং প্রয়োজনে নারী শিক্ষকদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু ভাইবা বোর্ডের অন্যান্য শিক্ষকরা আপত্তি জানানোয় আর ওই ছাত্রীর ভাইবা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ১৩ ডিসেম্বর আমাদের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ভাইবা ছিলো। আমি আগে থেকেই নেকাব করি তো ওইদিনও নেকাব করেই ভাইবায় গিয়েছিলাম। ভাইবা বোর্ডের স্যাররা আমাকে পরিচয় নিশ্চিতের জন্য নেকাব খুলতে বলেন। নেকাব না খুললে ভাইবা দিতে দিবে না। তখন আমি নেকাব খুলতে অসম্মতি জানাই। একজন ম্যাম উপস্থিত থাকায় আইডিন্টিফিকেশনের জন্য নারী শিক্ষিকার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে বলেছিলাম। কিন্তু বোর্ডের স্যাররা রাজি না হওয়ায় আমার ভাইবা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরো বলেন, শিক্ষকরা এমনও বলছে যে নেকাব না খুললে ভাইবা নিতে দিবে না এবং এজন্য পরীক্ষায় ফেইলও করতে পারি। আমি বারবার অনুরোধ করার পরও স্যাররা এ বিষয়ে সম্মত হননি। স্যারদের মূলত উদ্দেশ্য ছিলো যেনো আমি নেকাব খুলে ভাইবা দেই। তাদের পরিচয় শনাক্তকরণের কোনো ইনটেনশন ই ছিলো না।

এ বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাইবা বোর্ডে তাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান থেকে একাধিকবার বোঝানো হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ২৫ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় এসেও সে নেকাব খুলতে অস্বীকৃতি জানায়৷ পরবর্তীতে আমরা তার বাবাকেও ইনফর্ম করি, তিনি তার সন্তানকে আরেকটি সুযোগ দিতে বলেন। সে অনুযায়ী ক্যাম্পাস খোলার পর ১৭ জানুয়ারি সে ৩ জন বান্ধুবি নিয়ে ভাইবা দিতে এলেও পরিচয় শনাক্তে আবারো অস্বীকৃতি জানায়। সেদিনও সে চাইলে ভাইভা দিতে পারতো কিন্তু সে রাজি না হওয়ায় তার ভাইবা নেওয়া হয়নি।

বিভাগের সভাপতি শিমুল রায় বলেন, রেজাল্ট দেওয়ার আগ পর্যন্ত তার ভাইবা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি কিন্তু তাকে রাজি করিয়ে ভাইবা নিতে পারিনি। আমরা তাকে বলেছিলাম যে ভবিষ্যতে বিভাগীয়, চাকরিসহ অন্যান্য পরীক্ষায় তাকে পরিচয় শনাক্ত করেই ভাইবা দিতে হবে। অন্যান্য গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি এসেছে, আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই তেমনভাবে তার নেকাব খোলানো ছিল না। আমাদের উদ্দেশ্য ই ছিল তাকে আমাদের স্টুডেন্ট হিসেবে শনাক্ত করা।

পরীক্ষা কমিটির সভাপতি উম্মে সালমা লুনা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা তো এডমিশন টেস্টে মুখ, কান খুলেই এক্সাম দিয়েছেন। আমাদের ক্লাসরুমেও অনেক শিক্ষার্থী নেকাব করেন, আমরা কখনোই তাদের বিরূপ কিছু বলি না। এখন, ভাইবার দিন ওই শিক্ষার্থীকে দুই দফায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বোঝানো হয়েছে। কিন্তু সে রাজি হয়নি। যদি বোর্ডে কোন নারী শিক্ষক না থাকতো তবে সে কি করতো। ভাইবা বোর্ডের বাকিদের আপত্তি থাকায় নারী শিক্ষিকা হিসেবে আমার একার কিছু করার ছিল না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শেলিনা নাসরীন বলেন, যারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে আমরা তাদের সবসময়ই সম্মান করি। তবে চাকরির পরীক্ষা বলেন আর কোনো ফ্যাকাল্টির পরীক্ষা ই হোক না কেন, ভাইবায় তাকে শনাক্তযোগ্য হিসেবেই থাকতে হবে। অনেকে আছে যারা নারী শিক্ষিকা ছাড়া মুখ খুলতে চায় না সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষিকা দিয়ে শনাক্ত করানো হবে। এইজন্য যে আমরা পরীক্ষাই নিবো না বা পরীক্ষা নেয়া যাবে না এমন কোন বিষয় না।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ভাইবা বোর্ডে এধরণের কাজটি করা উচিত হয়নি। আমাদের অনেক সময় এরকম শিক্ষার্থীরা থাকে যারা নেকাব করে। আমরা সবসময়ই নারী শিক্ষকের মাধমে তাদের শনাক্ত করেছি। ওই ক্ষেত্রেও এমনটা করা যেতো। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে গেলে উক্ত শিক্ষকদের পেনাল্টি হতে পারে।