ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের নেতৃত্ব ছাড়লেন বাবর

নিজস্ব সংবাদ

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি তিন সংস্করণেই খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে যাব। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন অধিনায়ক ও দলকে সমর্থন করে যাব।’

বিশ্বকাপে বাজে দলের একের পর এক হারে ক্রমেই চাপের পাহাড় জমছিল বাবর আজমের কাঁধে। তার শেষটা হলো বিদায় দিয়ে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি- সব ধরনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাবর আজম।

গত ১৫ ইং তা্‌রিখ রোজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ আমি পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে সব সংস্করণ থেকে পদত্যাগ করছি। এটা কঠিন সিদ্ধান্ত, তবে আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়।’

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি তিন সংস্করণেই খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে যাব। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন অধিনায়ক ও দলকে সমর্থন করে যাব।’

খেলোয়াড়, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সমন্বিত অবদানে পাকিস্তান তার নেতৃত্ব সাদা বল ক্রিকেটে এক নম্বর দল হওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাবর। বলেন, ‘আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ২০১৯ সালে যখন পিসিবি থেকে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাকে ফোন কল করা হয় তারপর থেকে এই চার বছরে আমি মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে সবসময়ই ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানের গৌরব ও সম্মান বজায় রাখার দিকে লক্ষ্য রেখেছি।’

এ ছাড়া সবসময় তাকে সমর্থন করে যাওয়ায় সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতে চলমান বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচের কেবল চারটি জিতে পাঁচে থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। দলের পাশাপাশি বাবরের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তেমন ভালো ছিল না। চার ফিফটিতে ৪০ গড়ে ৩২০ রান করেন তিনি।

বিশ্বকাপের মাঝেই ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারান তিনি। আগ্রাসী মনোভাবের অভাবের কারণে সমালোচিত হয় তার নেতৃত্ব।

২০১৯ সালে সরফরাজ আহমেদের জায়গায় পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান বাবর। ২০২১ সালে দেয়া হয় টেস্টের নেতৃত্ব। তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান গত বছর এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। গত অগাস্টে তারা উঠে যায় ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে।

বাবরের অধিনায়কত্বে সব মিলিয়ে ২০ টেস্টে পাকিস্তানের জয় ১০টি, ৪৩ ওয়ানডেতে জয় ২৬টি এবং ৭১ টি-টোয়েন্টিতে জয় ৪২টি।

বাবরের জায়গায় নতুন অধিনায়ক কে হবেন, সে ব্যাপারে পিসিবি এখনও কিছু জানায়নি। তবে জিও সুপারের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক হতে পারেন শান মাসুদ আর টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব পেতে পারেন শাহিন আফ্রিদি।

পাকিস্তানের পরবর্তী সিরিজ ডিসেম্বরে, অস্ট্রেলিয়া সফরে তারা খেলবে তিনটি টেস্ট। এরপর জানুয়ারিতে তারা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলতে যাবে নিউজিল্যান্ডে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩
১৫৬ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের নেতৃত্ব ছাড়লেন বাবর

আপডেট সময় ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি তিন সংস্করণেই খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে যাব। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন অধিনায়ক ও দলকে সমর্থন করে যাব।’

বিশ্বকাপে বাজে দলের একের পর এক হারে ক্রমেই চাপের পাহাড় জমছিল বাবর আজমের কাঁধে। তার শেষটা হলো বিদায় দিয়ে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি- সব ধরনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাবর আজম।

গত ১৫ ইং তা্‌রিখ রোজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘আজ আমি পাকিস্তানের অধিনায়ক হিসেবে সব সংস্করণ থেকে পদত্যাগ করছি। এটা কঠিন সিদ্ধান্ত, তবে আমার মনে হয় এটাই সঠিক সময়।’

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি তিন সংস্করণেই খেলোয়াড় হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে যাব। আমার অভিজ্ঞতা দিয়ে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন অধিনায়ক ও দলকে সমর্থন করে যাব।’

খেলোয়াড়, কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের সমন্বিত অবদানে পাকিস্তান তার নেতৃত্ব সাদা বল ক্রিকেটে এক নম্বর দল হওয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাবর। বলেন, ‘আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ২০১৯ সালে যখন পিসিবি থেকে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাকে ফোন কল করা হয় তারপর থেকে এই চার বছরে আমি মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে সবসময়ই ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানের গৌরব ও সম্মান বজায় রাখার দিকে লক্ষ্য রেখেছি।’

এ ছাড়া সবসময় তাকে সমর্থন করে যাওয়ায় সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ভারতে চলমান বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচের কেবল চারটি জিতে পাঁচে থেকে বিদায় নেয় পাকিস্তান। দলের পাশাপাশি বাবরের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও তেমন ভালো ছিল না। চার ফিফটিতে ৪০ গড়ে ৩২০ রান করেন তিনি।

বিশ্বকাপের মাঝেই ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারান তিনি। আগ্রাসী মনোভাবের অভাবের কারণে সমালোচিত হয় তার নেতৃত্ব।

২০১৯ সালে সরফরাজ আহমেদের জায়গায় পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পান বাবর। ২০২১ সালে দেয়া হয় টেস্টের নেতৃত্ব। তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান গত বছর এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। গত অগাস্টে তারা উঠে যায় ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে।

বাবরের অধিনায়কত্বে সব মিলিয়ে ২০ টেস্টে পাকিস্তানের জয় ১০টি, ৪৩ ওয়ানডেতে জয় ২৬টি এবং ৭১ টি-টোয়েন্টিতে জয় ৪২টি।

বাবরের জায়গায় নতুন অধিনায়ক কে হবেন, সে ব্যাপারে পিসিবি এখনও কিছু জানায়নি। তবে জিও সুপারের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পরবর্তী টেস্ট সিরিজে অধিনায়ক হতে পারেন শান মাসুদ আর টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব পেতে পারেন শাহিন আফ্রিদি।

পাকিস্তানের পরবর্তী সিরিজ ডিসেম্বরে, অস্ট্রেলিয়া সফরে তারা খেলবে তিনটি টেস্ট। এরপর জানুয়ারিতে তারা পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলতে যাবে নিউজিল্যান্ডে।