ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধাকে জুতাপেটার অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার ওসি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আইডি কার্ড সঙ্গে না আনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা জিডি রুজু করা হয়নি।”

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দেউলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান।বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাদেম আলী হাওলাদার (৭৫) ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) জানানো হয়েছে।

তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে সেই অলিউল্লাহ গাজীও একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুবিদখালী কলেজের শিক্ষার্থী এবং দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাদেম আলী হাওলাদার বলেন, একই গ্রামে তার বোনের বাড়ির বাসিন্দা অলিউল্লাহ গাজী। দুদিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অলিউল্লাহর সঙ্গে তার বোনের ঝগড়াঝাটি হয়। তখন তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে দুপক্ষকেই ঝগড়া করতে নিষেধ করেন।

“বুধবার সন্ধ্যায় অলিউল্লাহর সঙ্গে দেউলী বাজারে আবার আমার কথা কাটাকাটি হয়। তখন অলিউল্লাহ এবং তার সঙ্গে থাকা ৪-৫ জন ছেলে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে পায়ের জুতা খুলে অলিউল্লাহ আমাকে বেশ কয়েকটা পিটান দেয়।

“তারপর লাঠি দিয়ে আমাকে পিটান দিলে আমার ডান হাত জখম হয়। এ সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন এবং অলিউল্লাহকে থামিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন”, বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েমা হাসান বলেন, “এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আমি এরই মধ্যে ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি। উনি চাইলে আদালতেও মামলা করতে পারেন।”

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বয়স্ক মানুষ তাই উনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড সঙ্গে না আনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা জিডি রুজু করা হয়নি। আইডি কার্ড নিয়ে আসবেন বলেছেন। আমরা অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল আলম বলেন, “আমাদের চোখের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদারকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলেটি নিজের জুতা দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বাজারের বাসিন্দা স্বপন গাজী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদার একজন প্রবীণ ব্যক্তি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এলাকার লোকজন তাকে সম্মান করে। কিন্তু তার উপর এ হামলা ন্যাক্কারজনক। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “অলিউল্লাহ গাজী ছাত্রলীগের পদ-পদবীতে নাই কিন্তু সে ছাত্রলীগের সমর্থক-কর্মী। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, অলিউল্লাহ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম আলী পরস্পরের আত্মীয়।এ ব্যাপারে জানতে অলিউল্লাহ গাজীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩
১০৬ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযোদ্ধাকে জুতাপেটার অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ১০:০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার ওসি বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আইডি কার্ড সঙ্গে না আনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা জিডি রুজু করা হয়নি।”

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার দেউলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান।বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাদেম আলী হাওলাদার (৭৫) ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনি এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) জানানো হয়েছে।

তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে সেই অলিউল্লাহ গাজীও একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সুবিদখালী কলেজের শিক্ষার্থী এবং দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ছাদেম আলী হাওলাদার বলেন, একই গ্রামে তার বোনের বাড়ির বাসিন্দা অলিউল্লাহ গাজী। দুদিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অলিউল্লাহর সঙ্গে তার বোনের ঝগড়াঝাটি হয়। তখন তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে দুপক্ষকেই ঝগড়া করতে নিষেধ করেন।

“বুধবার সন্ধ্যায় অলিউল্লাহর সঙ্গে দেউলী বাজারে আবার আমার কথা কাটাকাটি হয়। তখন অলিউল্লাহ এবং তার সঙ্গে থাকা ৪-৫ জন ছেলে আমাকে মারধর করে। একপর্যায়ে পায়ের জুতা খুলে অলিউল্লাহ আমাকে বেশ কয়েকটা পিটান দেয়।

“তারপর লাঠি দিয়ে আমাকে পিটান দিলে আমার ডান হাত জখম হয়। এ সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন এবং অলিউল্লাহকে থামিয়ে আমাকে উদ্ধার করেন”, বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েমা হাসান বলেন, “এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আমি এরই মধ্যে ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি। উনি চাইলে আদালতেও মামলা করতে পারেন।”

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদার একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বয়স্ক মানুষ তাই উনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড সঙ্গে না আনায় এখন পর্যন্ত মামলা বা জিডি রুজু করা হয়নি। আইডি কার্ড নিয়ে আসবেন বলেছেন। আমরা অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল আলম বলেন, “আমাদের চোখের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদারকে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলেটি নিজের জুতা দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

বাজারের বাসিন্দা স্বপন গাজী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম হাওলাদার একজন প্রবীণ ব্যক্তি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এলাকার লোকজন তাকে সম্মান করে। কিন্তু তার উপর এ হামলা ন্যাক্কারজনক। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

দেউলী-সুবিদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “অলিউল্লাহ গাজী ছাত্রলীগের পদ-পদবীতে নাই কিন্তু সে ছাত্রলীগের সমর্থক-কর্মী। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি আরও বলেন, অলিউল্লাহ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাদেম আলী পরস্পরের আত্মীয়।এ ব্যাপারে জানতে অলিউল্লাহ গাজীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।