ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যশোরে মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা!

মামুনর রশীদ রাজু, ব্যুরো চিফ (খুলনা)

যশোরে একাকীত্ব আর অভাবের তাড়নায় ১২ বছরের কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা। আত্মহত্যার আগে মেয়েকে ভুলিয়ে রাখতে কিনেছিলেন জন্মদিনের কেক ও কোমল পানীয়। কিন্তু সেগুলো খেতে খেতেই মেয়েকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন ওই নারী। সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর সদর উপজেলার পোলতাডাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লাকি বেগম সদর উপজেলার বড়হৈবতপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে। তার মেয়ের নাম সামিয়া আক্তার মিম (১২)। তারা মা-মেয়ে সাতমাইল বাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেসের ট্রেনটি আসা মাত্রই মেয়ের হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। এতে তাদের শরীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তারা গিয়ে দেখতে পান রেললাইনের পাশে একটি প্যাকেটে অর্ধেক খাওয়া জন্মদিনের কেক, কোমল পানীয় ও তাদের একটি ব্যাগ রয়েছে।

নিহতের বোন রোজিনা বেগম বলেন, সকালে বড় বোনকে কয়েক দফা ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা ধরেননি। এরপর সাতমাইল বাজারে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখি দরজায় তালা দেয়া। ভেবেছি ডাক্তারের কাছে গেছেন। পরে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনতে পাই, রেললাইনের ধারে মা ও মেয়ের মরদেহ পড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, আপা প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলতেন। ভগ্নিপতি জুম্মান‌ আলী বলেন, একাকীত্ব ও অভাবের মধ্যেই লাকির সংসার পরিচালিত হচ্ছিলো। লাকি হাতের কাজ করলেও সংসার ঠিকভাবে চলতো না। আমি বাজার করে দিলে তা দিয়েই চলতো। আমার মনে হয় অভাবের কারণে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, একাকীত্ব ও অভাবের কারণেই লাকি বেগম তার মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৭:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪
৬৫ বার পড়া হয়েছে

যশোরে মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা!

আপডেট সময় ০৭:৫৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

যশোরে একাকীত্ব আর অভাবের তাড়নায় ১২ বছরের কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক মা। আত্মহত্যার আগে মেয়েকে ভুলিয়ে রাখতে কিনেছিলেন জন্মদিনের কেক ও কোমল পানীয়। কিন্তু সেগুলো খেতে খেতেই মেয়েকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন ওই নারী। সোমবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে যশোর সদর উপজেলার পোলতাডাঙ্গা শ্মশানঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত লাকি বেগম সদর উপজেলার বড়হৈবতপুর গ্রামের মোকছেদ আলীর মেয়ে। তার মেয়ের নাম সামিয়া আক্তার মিম (১২)। তারা মা-মেয়ে সাতমাইল বাজারে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেসের ট্রেনটি আসা মাত্রই মেয়ের হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন তিনি। এতে তাদের শরীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে তারা গিয়ে দেখতে পান রেললাইনের পাশে একটি প্যাকেটে অর্ধেক খাওয়া জন্মদিনের কেক, কোমল পানীয় ও তাদের একটি ব্যাগ রয়েছে।

নিহতের বোন রোজিনা বেগম বলেন, সকালে বড় বোনকে কয়েক দফা ফোন দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা ধরেননি। এরপর সাতমাইল বাজারে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখি দরজায় তালা দেয়া। ভেবেছি ডাক্তারের কাছে গেছেন। পরে আশপাশের লোকজনের কাছে শুনতে পাই, রেললাইনের ধারে মা ও মেয়ের মরদেহ পড়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, আপা প্রায়ই আত্মহত্যার কথা বলতেন। ভগ্নিপতি জুম্মান‌ আলী বলেন, একাকীত্ব ও অভাবের মধ্যেই লাকির সংসার পরিচালিত হচ্ছিলো। লাকি হাতের কাজ করলেও সংসার ঠিকভাবে চলতো না। আমি বাজার করে দিলে তা দিয়েই চলতো। আমার মনে হয় অভাবের কারণে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, একাকীত্ব ও অভাবের কারণেই লাকি বেগম তার মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।