ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রবিন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি আর মামাবাড়ি একই গ্রামে

মামুনর রশীদ রাজু, ব্যুরো চিফ (খুলনা)

 

রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি অর্থাৎ স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর বাবার বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা সুন্দরী দেবী আর কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবীর জন্মও এই দক্ষিণডিহি গ্রামেই। দক্ষিণডিহি গ্রামের বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবীর সাথে ২২ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ হয়। রবীন্দ্রনাথ শশুরবাড়ি কখনো এসেছিলেন কিনা তা প্রশ্নবোধক? তবে যৌবনে বিশ্বকবি কয়েকবার মায়ের সঙ্গে দক্ষিণডিহি গ্রামের মামাবাড়িতে এসেছিলেন বলে জানা যায়।

 

রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর বাবার দোতলা বাড়িটির নিচতলায় মোট চারটি কক্ষ, উপরে দু’টি। চারদিকে বারান্দা আর চিলেকোঠাও আছে। দীর্ঘদিন বাড়িটি অন্যের ভোগদখলে ছিলো তবে ১৯৯৫ সালে উদ্ধার করে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় বাড়িটি নেওয়া হয় এবং তখন থেকেই রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের স্বীকৃতি পায়। কমপ্লেক্সের ভেতরে ঘরজুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য কাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র। যেসব অধিকাংশ আলোকচিত্রই রবীন্দ্রানুরাগীদের দেওয়া।

 

চার শতক জায়গার ওপর যে ভবনটি বর্তমানে দৃশ্যমান সেটি কবে কে নির্মাণ করেন তার সঠিক তথ্য মেলেনি। জানা যায়, বিয়ের আগে, অর্থাৎ ১৮৮৩ সালের আগে বিশ্বকবির শশুর বেনীমাধব রায় চৌধুরীর যে বাড়িটি এখানে ছিল সেটি ছিল টিনের তৈরি।

 

রবীন্দ্রনাথ তাঁর শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি আসুক বা না আসুক, এটাই যে তার শ্বশুরবাড়ি এতে কোনো ভুল নেই। দেশ-বিদেশের মানুষ এই ভবনটি দেখার জন্য হলেও এখানে ভিড় করেন। বাড়িতে ঢোকার মুখে সিঁড়ির দু’পাশে মৃণালিনী ও রবীন্দ্রনাথের আবক্ষমূর্তির দিকে তাকালে মনে হয়, ঠাকুর বাড়িতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কেউ না কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন।

 

রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রত্নত্বত্ত্ব অধিদপ্তরের দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা দাবির হোসেন বলেন, এখানকার দর্শ্নার্থীদের প্রায় ৭০ ভাগ বিদেশি এবং বিশেষ করে সার্কভুক্ত দেশেগুলোর নাগরিক। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জনের মতো দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণ করতে আসেন। হাইওয়ে থেকে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রধান রাস্তাটা বেশ সরু বিধায় দর্শনার্থীদের আসা যাওয়া বাধাগ্রস্থ হয় বলে তিনি মনে করেন। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রবেশে টিকিট মূল্য মাত্র ১০ টাকা। এখানে প্রফেশনাল ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ছবি তোলায় কোনো বাধা নেই। সম্প্রতি নিচতলায় অফিস কক্ষের সাথে একটি লাইব্রেরিও করা হয়েছে। নিয়ম মেনে সেখানে বসে পছন্দের বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র মেলার আয়োজন করা হয় ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শশুরবাড়ি’ খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
১৬৪ বার পড়া হয়েছে

রবিন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি আর মামাবাড়ি একই গ্রামে

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

 

রবীন্দ্রনাথের শশুরবাড়ি অর্থাৎ স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর বাবার বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদা সুন্দরী দেবী আর কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবীর জন্মও এই দক্ষিণডিহি গ্রামেই। দক্ষিণডিহি গ্রামের বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবীর সাথে ২২ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ হয়। রবীন্দ্রনাথ শশুরবাড়ি কখনো এসেছিলেন কিনা তা প্রশ্নবোধক? তবে যৌবনে বিশ্বকবি কয়েকবার মায়ের সঙ্গে দক্ষিণডিহি গ্রামের মামাবাড়িতে এসেছিলেন বলে জানা যায়।

 

রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর বাবার দোতলা বাড়িটির নিচতলায় মোট চারটি কক্ষ, উপরে দু’টি। চারদিকে বারান্দা আর চিলেকোঠাও আছে। দীর্ঘদিন বাড়িটি অন্যের ভোগদখলে ছিলো তবে ১৯৯৫ সালে উদ্ধার করে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় বাড়িটি নেওয়া হয় এবং তখন থেকেই রবীন্দ্র কমপ্লেক্সের স্বীকৃতি পায়। কমপ্লেক্সের ভেতরে ঘরজুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের শৈশব থেকে শুরু করে বার্ধক্য কাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র। যেসব অধিকাংশ আলোকচিত্রই রবীন্দ্রানুরাগীদের দেওয়া।

 

চার শতক জায়গার ওপর যে ভবনটি বর্তমানে দৃশ্যমান সেটি কবে কে নির্মাণ করেন তার সঠিক তথ্য মেলেনি। জানা যায়, বিয়ের আগে, অর্থাৎ ১৮৮৩ সালের আগে বিশ্বকবির শশুর বেনীমাধব রায় চৌধুরীর যে বাড়িটি এখানে ছিল সেটি ছিল টিনের তৈরি।

 

রবীন্দ্রনাথ তাঁর শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণডিহি আসুক বা না আসুক, এটাই যে তার শ্বশুরবাড়ি এতে কোনো ভুল নেই। দেশ-বিদেশের মানুষ এই ভবনটি দেখার জন্য হলেও এখানে ভিড় করেন। বাড়িতে ঢোকার মুখে সিঁড়ির দু’পাশে মৃণালিনী ও রবীন্দ্রনাথের আবক্ষমূর্তির দিকে তাকালে মনে হয়, ঠাকুর বাড়িতে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য কেউ না কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন।

 

রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রত্নত্বত্ত্ব অধিদপ্তরের দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা দাবির হোসেন বলেন, এখানকার দর্শ্নার্থীদের প্রায় ৭০ ভাগ বিদেশি এবং বিশেষ করে সার্কভুক্ত দেশেগুলোর নাগরিক। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জনের মতো দর্শনার্থী এখানে ভ্রমণ করতে আসেন। হাইওয়ে থেকে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রধান রাস্তাটা বেশ সরু বিধায় দর্শনার্থীদের আসা যাওয়া বাধাগ্রস্থ হয় বলে তিনি মনে করেন। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে প্রবেশে টিকিট মূল্য মাত্র ১০ টাকা। এখানে প্রফেশনাল ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ছবি তোলায় কোনো বাধা নেই। সম্প্রতি নিচতলায় অফিস কক্ষের সাথে একটি লাইব্রেরিও করা হয়েছে। নিয়ম মেনে সেখানে বসে পছন্দের বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছর ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র মেলার আয়োজন করা হয় ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শশুরবাড়ি’ খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামের রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে।