ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় প্রশিকার কম্বল বিতরন অনুষ্ঠান

শীতবস্ত্র পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন দরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষরা

মাসুদ রানা, গাইবান্ধা

 

গাইবান্ধায় প্রশিকার কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে কম্বল পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন দরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষরা

কথায় আছে ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’। শীতকাল ধনীদের কাছে অনেক সুখকর সময় মনে হলেও দুস্থ অসহায় ‍মানুষের কাছে সর্বনাশই। কারণ, শীতকাল এলেই ধনী বা মধ্যবিত্তদের মধ্যে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের শীতের পোশাক কেনার ধুম পড়ে যায়। আর যাদের সামান্য একটি শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে শীতকাল মানেই সর্বনাশ।

বরাবরের মতো এবারও এসব অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের আয়োজনে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান কবি ও কথা সাহিত্যিক মিজ্ রোকেয়া ইসলাম ও প্রধান নির্বাহী জনাব, সিরাজুল ইসলাম মহোদয়ের পৃষ্টপোষকতায়, সমাজে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর গরীব জনগোষ্টী ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে শনিবার (২০জানুযারি) সকাল ১১ঘটিকায় গাইবান্ধা শ্রী শ্রী কালিবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গন থেকে ১৫০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার সুযোগ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) জনাব, সুশান্ত কুমার মাহাতো, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের গাইবান্ধা জেলার সভাপতি বাবু রনজিত বক্সী সূর্য, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু সজল সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা সদরের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা বাবু রামেশ্বর সাহা ।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা গাইবান্ধা জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক জনাব আনন্দ মোহন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু ,বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা সদরের সাধারণ সম্পাদক বাবু রঞ্জন সাহা। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা উন্নয়ন এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ রিপন খান।

হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কথা:

লাঠির ওপর ভর দিয়ে কম্বল নিতে এসেছেন শরৎচন্দ্র (৯০)। কম্বল হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বেলা খাবার পাম না, কম্বল কিনিম কি দিয়া, বাড়িত ঠান্ডা কাটার মতো খ্যাতা ও (কাঁথা) নাই। মোর ছেলেগিলাও গরিব। ছেলেগিলাও নিজের ছাওয়াক গরম কাপড় দিবার পায় না। ঠান্ডাতে মোর হাত পাও কোকড়া হয়া গেছে। এই প্রথম এমরা মোক কম্বল দিলো, মোর খুব উপকার করছে এমরা।

কম্বল হাতে পেয়ে আর এক বৃদ্ধ সুরেশ চন্দ্র (৭৫) বলেন, ‘কম্বল পায়া মোর খুব উপকার হলো বাহে, কত জনের কাছোতে গেছোম কেউ মোক কম্বল দেয় নাই, জারোতে মুই মরি যাচ্ছোম। যারা মোক কম্বল দিলো তামার (তাদের) আল্লাহ ভালো করুক।

কম্বল পেয়ে সকলে খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রশিকার সফলতা কামনা করেন।

 

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে: গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র দীর্ঘদিন থেকে ভালো কাজ করে আসছে। শীতে কম্বল দিয়ে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করছে।

এই ভালো উদ্যোগের কারণে দরিদ্ররা উপকৃত হচ্ছেন। ভালো কাজের উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে দেশের মানুষ আরো বেশি উপকৃত হবেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিগণরাও প্রশিকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভুয়সী প্রশংসা করেন। সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন প্রশিকা গাইবান্ধা উন্নয়ন এলাকা ও বাংলাদেশ হিন্দু,  বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলার কর্মীবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৫:২৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪
১৫২ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় প্রশিকার কম্বল বিতরন অনুষ্ঠান

শীতবস্ত্র পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন দরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষরা

আপডেট সময় ০৫:২৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪

 

গাইবান্ধায় প্রশিকার কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে কম্বল পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন দরিদ্র ও অসহায় শীতার্ত মানুষরা

কথায় আছে ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ’। শীতকাল ধনীদের কাছে অনেক সুখকর সময় মনে হলেও দুস্থ অসহায় ‍মানুষের কাছে সর্বনাশই। কারণ, শীতকাল এলেই ধনী বা মধ্যবিত্তদের মধ্যে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের শীতের পোশাক কেনার ধুম পড়ে যায়। আর যাদের সামান্য একটি শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে শীতকাল মানেই সর্বনাশ।

বরাবরের মতো এবারও এসব অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে শীতবস্ত্র পৌঁছে দিচ্ছে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের আয়োজনে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান কবি ও কথা সাহিত্যিক মিজ্ রোকেয়া ইসলাম ও প্রধান নির্বাহী জনাব, সিরাজুল ইসলাম মহোদয়ের পৃষ্টপোষকতায়, সমাজে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর গরীব জনগোষ্টী ও অসহায় শীতার্তদের মাঝে শনিবার (২০জানুযারি) সকাল ১১ঘটিকায় গাইবান্ধা শ্রী শ্রী কালিবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গন থেকে ১৫০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার সুযোগ্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) জনাব, সুশান্ত কুমার মাহাতো, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের গাইবান্ধা জেলার সভাপতি বাবু রনজিত বক্সী সূর্য, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু সজল সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা সদরের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা বাবু রামেশ্বর সাহা ।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা গাইবান্ধা জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক জনাব আনন্দ মোহন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ হিন্দু ,বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা সদরের সাধারণ সম্পাদক বাবু রঞ্জন সাহা। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা উন্নয়ন এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ রিপন খান।

হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কথা:

লাঠির ওপর ভর দিয়ে কম্বল নিতে এসেছেন শরৎচন্দ্র (৯০)। কম্বল হাতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘তিন বেলা খাবার পাম না, কম্বল কিনিম কি দিয়া, বাড়িত ঠান্ডা কাটার মতো খ্যাতা ও (কাঁথা) নাই। মোর ছেলেগিলাও গরিব। ছেলেগিলাও নিজের ছাওয়াক গরম কাপড় দিবার পায় না। ঠান্ডাতে মোর হাত পাও কোকড়া হয়া গেছে। এই প্রথম এমরা মোক কম্বল দিলো, মোর খুব উপকার করছে এমরা।

কম্বল হাতে পেয়ে আর এক বৃদ্ধ সুরেশ চন্দ্র (৭৫) বলেন, ‘কম্বল পায়া মোর খুব উপকার হলো বাহে, কত জনের কাছোতে গেছোম কেউ মোক কম্বল দেয় নাই, জারোতে মুই মরি যাচ্ছোম। যারা মোক কম্বল দিলো তামার (তাদের) আল্লাহ ভালো করুক।

কম্বল পেয়ে সকলে খুব সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রশিকার সফলতা কামনা করেন।

 

শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে: গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র দীর্ঘদিন থেকে ভালো কাজ করে আসছে। শীতে কম্বল দিয়ে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করছে।

এই ভালো উদ্যোগের কারণে দরিদ্ররা উপকৃত হচ্ছেন। ভালো কাজের উদ্যোগ অব্যাহত রাখলে দেশের মানুষ আরো বেশি উপকৃত হবেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিগণরাও প্রশিকার বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভুয়সী প্রশংসা করেন। সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন প্রশিকা গাইবান্ধা উন্নয়ন এলাকা ও বাংলাদেশ হিন্দু,  বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলার কর্মীবৃন্দ।