ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকরা যে কারণে বেছে নিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে 

আনোয়ার সুলতান, সাভার

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আশুলিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের ট্রাক মার্কা নির্বাচনি প্রচারণা ও র‍্যালি করেছেন শ্রীপুর বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের মার্কেটের দোকানীরা।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর জাতীয় শ্রমীক লীগের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লায়ন ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক মুসল্লিসহ  আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার শ্রীপুর বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের মার্কেটের দোকানীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের ট্রাক মার্কা প্রচারণা ও র‍্যালি করেন তারা।

র‍্যালি শেষে বক্তব্যে জাতীয় শ্রমীক লীগের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লায়ন ইমাম হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ আশুলিয়া শ্রমীকদের সাথে সম্পৃক্ত। আসলে যদি একদম পিছনে যাই, রানা প্লাজাকে কেন্দ্র করে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে বর্তমান ঈগল মার্কায় যিনি দাড়িয়েছেন মুরাদ জং রানা প্লাজার ট্র্যাজেডিতে ১৩’শ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণে উনি সেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন। আর রানা প্লাজায় আহতদের চিকিৎসা দিয়ে ডা. এনামুর রহমান এমপি হয়েছেন। দ্বিতীয় ট্রামে তিনি মন্ত্রী হেয়েছেন। কিন্তু আমাদের দুঃখ ভরাক্রান্তে বলতে হয়, উনারা দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরেও আমাদের শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয় নাই।

লায়ন ইমাম হোসেন বলেন, আশুলিয়া-সাভার একটি শ্রমিক শিল্পাঞ্চল এলাকা। ঢাকা-১৯ আসন যেখানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ, আট লাখ ভোট যার মধ্যে বিদেশিদের বাহিরের লোক রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার লোক এসে এখানে ভোটার হয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখের অধিক। শ্রমজীবিদের এই ভোট গত দশ বছরেও আমরা দেখেছি যিনি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি কোনো ত্রাণ কোনো শ্রমিকদের হাতে ওঠায় দিতে পারেন নাই। জলাবদ্ধতা আশুলিয়া-সাভারের একটা নিয়মিত অধ্যায় ইয়ারপুরের মানুষ পানি দিয়া যাইতে পারে না উনি সেইগুলার প্রুক্ষেপ করেন নাই।

শ্রমিক নেতা বলেন, আমরা শ্রমিক নেতা হিসাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কাজ করার সময় দেখেছি গত দশ বছরে ডা. এনামুর রহমান ত্রাণ মন্ত্রী হয়ে করোনার সময় এক পোটলা খাদ্য শ্রমিকদের হাতে ওঠায় দেন নাই। আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী তৌহিদ জং মুরাদ তিনি দশ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির শ্রমিকদের রক্তে হোলিখেলার উপর দিয়ে নিদ্রায় নিয়েছিলেন। এখন ওনার বিভিন্ন নির্বাচনের শোডাউনে বলেন যে আমি কি রানা প্লাজা ভেঙেছি, আপনারা কি বলেন, তখন কর্মীরা বলেন না। রানা প্লাজা আমার, উনি বলেন না। তাহলে রানা প্লাজা কার ছিলো, রানার ছিলো আর সেই রানার কপালে তিনি চুমো দিয়েছিলেন। রানা প্লাজা ধংস হবার পরে উনি দশ বছর কেনো আসেন নাই, সেইদিন উনার কর্মীরা কেনো উনাকে প্রতিহত করেন নাই, কেনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন নাই যে মুরাদ জংয়ের দোষ নাই। দশ বছর উনি আমেরিকা থেকে ওনার বক্তব্যে উনি বলে আমার আমেরিকায় ব্যবসা আছে। উনি দশ বছর আমেরিকায় থেকে ব্যবসা বানিজ্য করে অর্থকরীর মালিক হবেন আর আমরা শ্রমিকরা খেটে খাওয়া মানুষরা পানি দিয়ে হাঁটবো এলাকার উন্নয়ন হবে না উনি এখন ভোটের জন্য আসবে। করোনার সময় এই সাইফুল ইসলাম আমাদের শ্রমিকদের ৪৮টন খাদ্য ১২’শ পঞ্চাশ প্যাকেট চল্লিশ কেজি করে আমরা শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সবসময় বলেন আপনারা দূর থেকে এসেছেন আমাদের এলাকায় ঘরবাড়ি করেছেন, চাকরি করছেন, আপনাদের কারণে আমাদের কপাল খুলেছে আমরা আপনাদেরকে সম্মান করি সুতরাং যার কারণে আমরা হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ছাড়া নতুন একজনকে বেছে নিয়েছি আমরা শ্রমিকরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩
১৯২ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিকরা যে কারণে বেছে নিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে 

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৩

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আশুলিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের ট্রাক মার্কা নির্বাচনি প্রচারণা ও র‍্যালি করেছেন শ্রীপুর বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের মার্কেটের দোকানীরা।

শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর জাতীয় শ্রমীক লীগের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লায়ন ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক মুসল্লিসহ  আশুলিয়ার শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার শ্রীপুর বৃহত্তর পাইকারী কাপড়ের মার্কেটের দোকানীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের ট্রাক মার্কা প্রচারণা ও র‍্যালি করেন তারা।

র‍্যালি শেষে বক্তব্যে জাতীয় শ্রমীক লীগের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ লায়ন ইমাম হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ আশুলিয়া শ্রমীকদের সাথে সম্পৃক্ত। আসলে যদি একদম পিছনে যাই, রানা প্লাজাকে কেন্দ্র করে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে বর্তমান ঈগল মার্কায় যিনি দাড়িয়েছেন মুরাদ জং রানা প্লাজার ট্র্যাজেডিতে ১৩’শ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণে উনি সেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন। আর রানা প্লাজায় আহতদের চিকিৎসা দিয়ে ডা. এনামুর রহমান এমপি হয়েছেন। দ্বিতীয় ট্রামে তিনি মন্ত্রী হেয়েছেন। কিন্তু আমাদের দুঃখ ভরাক্রান্তে বলতে হয়, উনারা দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পরেও আমাদের শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয় নাই।

লায়ন ইমাম হোসেন বলেন, আশুলিয়া-সাভার একটি শ্রমিক শিল্পাঞ্চল এলাকা। ঢাকা-১৯ আসন যেখানে প্রায় সাড়ে সাত লাখ, আট লাখ ভোট যার মধ্যে বিদেশিদের বাহিরের লোক রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার লোক এসে এখানে ভোটার হয়েছেন প্রায় পাঁচ লাখের অধিক। শ্রমজীবিদের এই ভোট গত দশ বছরেও আমরা দেখেছি যিনি ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি কোনো ত্রাণ কোনো শ্রমিকদের হাতে ওঠায় দিতে পারেন নাই। জলাবদ্ধতা আশুলিয়া-সাভারের একটা নিয়মিত অধ্যায় ইয়ারপুরের মানুষ পানি দিয়া যাইতে পারে না উনি সেইগুলার প্রুক্ষেপ করেন নাই।

শ্রমিক নেতা বলেন, আমরা শ্রমিক নেতা হিসাবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কাজ করার সময় দেখেছি গত দশ বছরে ডা. এনামুর রহমান ত্রাণ মন্ত্রী হয়ে করোনার সময় এক পোটলা খাদ্য শ্রমিকদের হাতে ওঠায় দেন নাই। আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থী তৌহিদ জং মুরাদ তিনি দশ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির শ্রমিকদের রক্তে হোলিখেলার উপর দিয়ে নিদ্রায় নিয়েছিলেন। এখন ওনার বিভিন্ন নির্বাচনের শোডাউনে বলেন যে আমি কি রানা প্লাজা ভেঙেছি, আপনারা কি বলেন, তখন কর্মীরা বলেন না। রানা প্লাজা আমার, উনি বলেন না। তাহলে রানা প্লাজা কার ছিলো, রানার ছিলো আর সেই রানার কপালে তিনি চুমো দিয়েছিলেন। রানা প্লাজা ধংস হবার পরে উনি দশ বছর কেনো আসেন নাই, সেইদিন উনার কর্মীরা কেনো উনাকে প্রতিহত করেন নাই, কেনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন নাই যে মুরাদ জংয়ের দোষ নাই। দশ বছর উনি আমেরিকা থেকে ওনার বক্তব্যে উনি বলে আমার আমেরিকায় ব্যবসা আছে। উনি দশ বছর আমেরিকায় থেকে ব্যবসা বানিজ্য করে অর্থকরীর মালিক হবেন আর আমরা শ্রমিকরা খেটে খাওয়া মানুষরা পানি দিয়ে হাঁটবো এলাকার উন্নয়ন হবে না উনি এখন ভোটের জন্য আসবে। করোনার সময় এই সাইফুল ইসলাম আমাদের শ্রমিকদের ৪৮টন খাদ্য ১২’শ পঞ্চাশ প্যাকেট চল্লিশ কেজি করে আমরা শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সবসময় বলেন আপনারা দূর থেকে এসেছেন আমাদের এলাকায় ঘরবাড়ি করেছেন, চাকরি করছেন, আপনাদের কারণে আমাদের কপাল খুলেছে আমরা আপনাদেরকে সম্মান করি সুতরাং যার কারণে আমরা হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ছাড়া নতুন একজনকে বেছে নিয়েছি আমরা শ্রমিকরা।