ঢাকা ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৫ পুষ্টির ঘাটতি হার্টের জন্য বিপজ্জনক

নিজস্ব সংবাদ

স্বাস্থ্যকর খাবার না খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শরীরের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের খুব প্রয়োজন।

কিছু কিছু পুষ্টি রয়েছে, শরীরে যেগুলোর অভাব হলে আমাদের হার্টের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় পুষ্টিযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। কারণ হার্ট একবার বিগড়ে গেলে তা আপনার জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেই কোন কোন পুষ্টিগুলো হার্ট ভালো রাখে-

১. ম্যাগনেসিয়াম

আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ম্যাগনেসিয়ামের প্রভাব বেশিরভাগ সময়েই উপেক্ষা করা হয়। প্রদাহ থেকে বিষণ্নতা এমনকি মাইগ্রেন পর্যন্ত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ এবং এটি ম্যাগনেসিয়ামের অভাবের সঙ্গেও যুক্ত। সবুজ শাক, স্যামন, অ্যাভোকাডো, কলা, লো ফ্যাট দই, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ হলো ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। আপনি যদি ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্টরি খেতে চান তবে তার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

২. পটাসিয়াম

গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পটাসিয়ামের অভাব হলে তা কার্ডিয়াক রিদমে অস্বাভাবিকতা ঘটাতে এবং পেশি দুর্বল করতে পারে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে আলু, রাজমা ডাল, কলা, অ্যাভোকাডো, রোদে শুকানো টমেটো, দুধ, স্যামন এবং টুনা মাছ। সাপ্লিমেন্ট খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে খান কারণ উচ্চ পটাসিয়াম অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে।

৩. ভিটামিন ডি

অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও ভিটামিন ডি শরীরের খাদ্যতালিকাগত ক্যালসিয়ামের ব্যবহারকে সহজতর করে। ডিমের কুসুম, স্যামন, টুনা, এবং ফোর্টিফাইড কমলার রসের মতো খাবার ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি মিলবে সূর্যের আলোতে। তাই প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা রোদে থাকার অভ্যাস করুন। ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেতে চাইলে সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. ক্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কম ক্যালসিয়ামের মাত্রা রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আপনার হৃৎপিণ্ড এবং হাড়ের জন্য উপকারী দই, দুধ, ফোর্টিফাইড সিরিয়াল এবং সয়াবিন খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান।

৫. ভিটামিন বি

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ফোলেট এবং ভিটামিন বি -৬ গ্রহণ করেছে তাদের স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিওরজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কম ছিল। ভিটামিন বি-৬, বি-১২ এবং বি-৯ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। বি ভিটামিন আমাদের শরীরে নতুন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়তা করে, যা টিস্যু এবং বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০১:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩
৩৬০ বার পড়া হয়েছে

৫ পুষ্টির ঘাটতি হার্টের জন্য বিপজ্জনক

আপডেট সময় ০১:০৬:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৩

স্বাস্থ্যকর খাবার না খেলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। শরীরের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের খুব প্রয়োজন।

কিছু কিছু পুষ্টি রয়েছে, শরীরে যেগুলোর অভাব হলে আমাদের হার্টের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় পুষ্টিযুক্ত খাবার রাখা জরুরি। কারণ হার্ট একবার বিগড়ে গেলে তা আপনার জীবনকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। চলুন জেনে নেই কোন কোন পুষ্টিগুলো হার্ট ভালো রাখে-

১. ম্যাগনেসিয়াম

আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ম্যাগনেসিয়ামের প্রভাব বেশিরভাগ সময়েই উপেক্ষা করা হয়। প্রদাহ থেকে বিষণ্নতা এমনকি মাইগ্রেন পর্যন্ত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে ম্যাগনেসিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ এবং এটি ম্যাগনেসিয়ামের অভাবের সঙ্গেও যুক্ত। সবুজ শাক, স্যামন, অ্যাভোকাডো, কলা, লো ফ্যাট দই, বাদাম এবং বিভিন্ন ধরনের বীজ হলো ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। আপনি যদি ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্টরি খেতে চান তবে তার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

২. পটাসিয়াম

গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরে পটাসিয়ামের অভাব হলে তা কার্ডিয়াক রিদমে অস্বাভাবিকতা ঘটাতে এবং পেশি দুর্বল করতে পারে। পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে আলু, রাজমা ডাল, কলা, অ্যাভোকাডো, রোদে শুকানো টমেটো, দুধ, স্যামন এবং টুনা মাছ। সাপ্লিমেন্ট খেতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে খান কারণ উচ্চ পটাসিয়াম অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে।

৩. ভিটামিন ডি

অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়াও ভিটামিন ডি শরীরের খাদ্যতালিকাগত ক্যালসিয়ামের ব্যবহারকে সহজতর করে। ডিমের কুসুম, স্যামন, টুনা, এবং ফোর্টিফাইড কমলার রসের মতো খাবার ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ। সবচেয়ে বেশি ভিটামিন ডি মিলবে সূর্যের আলোতে। তাই প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা রোদে থাকার অভ্যাস করুন। ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট খেতে চাইলে সেক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. ক্যালসিয়াম

ক্যালসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কম ক্যালসিয়ামের মাত্রা রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা হৃদ্‌রোগ এবং স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আপনার হৃৎপিণ্ড এবং হাড়ের জন্য উপকারী দই, দুধ, ফোর্টিফাইড সিরিয়াল এবং সয়াবিন খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান।

৫. ভিটামিন বি

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি ফোলেট এবং ভিটামিন বি -৬ গ্রহণ করেছে তাদের স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিওরজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কম ছিল। ভিটামিন বি-৬, বি-১২ এবং বি-৯ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। বি ভিটামিন আমাদের শরীরে নতুন লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে সহায়তা করে, যা টিস্যু এবং বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।