ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৭ লাখ টাকায় বেঁচে থাকবে ইবির সন্দন শাহার স্বপ্ন

ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি

 

“ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) বাহিনীতে যোগদান করবো। শিক্ষাজীবনের প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে স্বপ্ন ছোঁয়ায় বাঁধা দিল পঙ্গুত্ব নামক ব্যাধি। এই বাস্তবতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে যাওয়াটাও এখন স্বপ্নের চেয়েও বড়। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকার। কিভাবে হবে এত টাকার সংস্থান তা ভেবে হতাশ সবাই” – এভাবেই নিজের পঙ্গু জীবনের অসহায়ত্বের কথা বলেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দন শাহা (২৪)।

পঙ্গুত্বর সাথে যুদ্ধ করে চলা সন্দন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স এন্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস অবস্থায় দিনপাত করছেন তিনি।৫ সদস্যদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সন্দনের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুর্দি এলাকায়।

এক দুর্ঘটনায় গাছ পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে সন্দনের। পরবর্তীতে দেখা যায় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড। ফলে কোমেরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে তার। কোনরকম ভাবে চলাফেরার জন্য তার শরীরে ৮ টা নাট, ২ টা বল্টু লাগানো হয়েছে। এখন শরীরও ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যেতে বসেছে বলে জানান সন্দন শাহা।

ঢাকার গ্রিন লাইন হাসপাতাল থেকে প্রথম সার্জারি করানো হয় সন্দনকে। এরপর সাভার সিআরপি (সেন্ট্রাল ফর রিহেবিলিটেশন অব প্যারালাইজড)- তে ৪ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঘরোয়াভাবে ফিজিও থেরাপি নিলেও টাকার অভাবে বাড়িতে প্রায় বিনাচিকিৎসায় দিন কাটছে সন্দনের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্দনের স্পাইনাল কর্ড পুনরায় স্বাভাবিক করতে তাকে ভারতের চেন্নাইতে চিকিৎসা নিতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকার। নতুবা তার কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে যে মোটা অংকের অর্থ প্রয়োজন, সেই ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম তার নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। এমন বাস্তবতায় তার চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহে এগিয়ে এসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মেধাবী সন্দনের এক সহপাঠী বলেন, ওর পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সমাজের দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সহায়তা চেয়েছে ওর পরিবার। তাই আমরা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এগিয়ে এসেছি৷ আমরা কি পারি না, মেধাবী এ শিক্ষার্থীর মুখে আবার হাসি ফুটাতে? আমরা কি পারি না স্বাভাবিক জীবন নিয়ে তার স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে? সবাইকে অনুরোধ করব সন্দন শাহার জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে, তাকে পঙ্গুত্বের থাবা থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করতে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১২:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
১৬৩ বার পড়া হয়েছে

৭ লাখ টাকায় বেঁচে থাকবে ইবির সন্দন শাহার স্বপ্ন

আপডেট সময় ১২:২৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

 

“ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতাম প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) বাহিনীতে যোগদান করবো। শিক্ষাজীবনের প্রায় শেষ মুহূর্তে এসে স্বপ্ন ছোঁয়ায় বাঁধা দিল পঙ্গুত্ব নামক ব্যাধি। এই বাস্তবতায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে যাওয়াটাও এখন স্বপ্নের চেয়েও বড়। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকার। কিভাবে হবে এত টাকার সংস্থান তা ভেবে হতাশ সবাই” – এভাবেই নিজের পঙ্গু জীবনের অসহায়ত্বের কথা বলেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দন শাহা (২৪)।

পঙ্গুত্বর সাথে যুদ্ধ করে চলা সন্দন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স এন্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসিস অবস্থায় দিনপাত করছেন তিনি।৫ সদস্যদের নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সন্দনের বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুর্দি এলাকায়।

এক দুর্ঘটনায় গাছ পড়ে মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে সন্দনের। পরবর্তীতে দেখা যায় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড। ফলে কোমেরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে তার। কোনরকম ভাবে চলাফেরার জন্য তার শরীরে ৮ টা নাট, ২ টা বল্টু লাগানো হয়েছে। এখন শরীরও ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যেতে বসেছে বলে জানান সন্দন শাহা।

ঢাকার গ্রিন লাইন হাসপাতাল থেকে প্রথম সার্জারি করানো হয় সন্দনকে। এরপর সাভার সিআরপি (সেন্ট্রাল ফর রিহেবিলিটেশন অব প্যারালাইজড)- তে ৪ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বর্তমানে ঘরোয়াভাবে ফিজিও থেরাপি নিলেও টাকার অভাবে বাড়িতে প্রায় বিনাচিকিৎসায় দিন কাটছে সন্দনের। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সন্দনের স্পাইনাল কর্ড পুনরায় স্বাভাবিক করতে তাকে ভারতের চেন্নাইতে চিকিৎসা নিতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ লাখ টাকার। নতুবা তার কর্মক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে হলে যে মোটা অংকের অর্থ প্রয়োজন, সেই ব্যয়ভার বহন করতে অক্ষম তার নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। এমন বাস্তবতায় তার চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহে এগিয়ে এসেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুবান্ধব এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মেধাবী সন্দনের এক সহপাঠী বলেন, ওর পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সমাজের দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সহায়তা চেয়েছে ওর পরিবার। তাই আমরা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এগিয়ে এসেছি৷ আমরা কি পারি না, মেধাবী এ শিক্ষার্থীর মুখে আবার হাসি ফুটাতে? আমরা কি পারি না স্বাভাবিক জীবন নিয়ে তার স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে? সবাইকে অনুরোধ করব সন্দন শাহার জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে, তাকে পঙ্গুত্বের থাবা থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করতে।