ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান বিএনপির

নিজস্ব সংবাদ

ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই পাতানো সিলমোহরের নির্বাচনে যারা অংশ নিচ্ছেন বা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা করছেন-তাদেরকে আমি বিএনপির পক্ষ থেকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আপনাদের যদি ন্যূনতম দেশপ্রেম থাকে, যদি মনুষ্যত্ব থাকে, বিবেক বিবেচনাবোধ থাকে তবে ফিরে আসুন। আপনারা মীরজাফরের উত্তরসূরি হবেন না। ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের ঘৃণা রুদ্ররোষের শিকার হবেন না। প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী ভাগবাটোয়ারার পাতানোর নির্বাচনে কেউ কোন সহযোগিতা করবেন না। ভোটাররা ভোটদান থেকে বিরত থাকুন। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় এই অমার্জনীয় অপকর্মের জন্য জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাসের পাতায় আপনাদের নাম বেইমান-মীরজাফরের পাশে উৎকীর্ণ থাকবে। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ।

এই পরীক্ষা বার বার আসেনা।

তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায়, গণভবনের তালিকায় শুধুমাত্র নির্বাচনের নামে সিলমোহর দেয়ার জন্য কেন রাষ্ট্রীয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে? দেউলিয়া এবং বুভুক্ষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কেন এই ভোটের নামে করা হচ্ছে ভেল্কিবাজী? কাকে এমপি ঘোষণা দেয়া হবে আর কাকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে সব কিছুই তো প্রস্তুত আছে। এখনি ঘোষণা দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। যারাই জিতবে তারা সবাই তো প্রধানমন্ত্রীর লোক-‘অল দি প্রাইমমিনিস্টারস মেন’! এত নাটক, এত কাহিনী, এত হত্যা-গুম-খুন-গ্রেপ্তার-সহিংসতা করার দরকার কি?

রিজভী বলেন, গোটা দেশের জনগণ, সমস্ত বিরোধী দলগুলোর প্রচণ্ড বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত আহ্বান উপেক্ষা করে সরকার একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করার অপরিণামদর্শী আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর একগুয়েমী দেখে অনুমিত হচ্ছে, তিনি দেশ এবং জনগণকে ধ্বংস করেই তবে বিদায় নিবেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা হর্স ট্রেডিং শুরু করেছিল, কিন্তু তাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে বিএনপির সাচ্চা কাউকে হালুয়া রুটির লোভে রাজদলে হায়ার করতে পারেনি। গুটিকয় উচ্ছিষ্ট, পূর্ব থেকেই দল বিতাড়িত কিছু জনধিকৃতকে টাকার বিনিময়ে ভাগিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ এখন লোক ভাগানোর দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের লজ্জা হওয়া উচিত যে, দেড় বছর ধরে এতো রাষ্ট্রীয় লোক লস্কর মাঠে নামিয়ে এতো নগদ অর্থ বিতরণ, ব্লাকমেইলিং, এমপি-মন্ত্রী করার প্রলোভন দিয়ে পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো অবস্থা হলো। যাদের কিনে ভোটে ভিড়িয়েছে তাদের দুই-একজন ছাড়া কারো নাম পর্যন্ত শোনিনি দেশের মানুষ। এমপি হওয়ার জন্য জনগণের কাছে নয়, আওয়ামী লুটেরা চক্র এবং তাদের দোসররা এখন এমপি হওয়ার জন্য মাফিয়াদের বর্তমান আস্তানা গণভবনের দিকে ছুটছে। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই হাস্যকরভাবে আকুতি জানাচ্ছেন সংসদে যাওয়ার জন্য। তারা কেউ সরকার গঠনের কথা ভাবছেন না, তারা শুধু সংসদে যেতে চান। তাই তারা শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে, শেখ হাসিনা তার হাতে রাখা ‘হাড্ডি’ দিয়েছেন আরেক নেতার হাতে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, মানবাধিকার দিবসে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে- এমন গোয়েন্দা তথ্য নাকি তাঁর কাছে রয়েছে। আসলেই ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাংবাদিক সম্মেলন যেন চিত্তকর্ষক কমিডি শো এবং তিনি হচ্ছেন যোগ্য হোস্ট। গোয়েন্দা তথ্যের উৎস কি সুধা ভবন নাকি গণভবন। আসন্ন তামাশার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী ও নাটিকা রচনা করবেন তার আভাস পাওয়া যায় এসমস্ত কথায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গ্রেপ্তার, আহত, মামলা এবং আসামীর তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, এসময়ে ৩৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আহত হয়েছে ৭৫ জন, মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৮টি। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ১৭৮৫ জন নেতাকর্মীকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
৬৮ বার পড়া হয়েছে

ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান বিএনপির

আপডেট সময় ১১:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই পাতানো সিলমোহরের নির্বাচনে যারা অংশ নিচ্ছেন বা প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগিতা করছেন-তাদেরকে আমি বিএনপির পক্ষ থেকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, আপনাদের যদি ন্যূনতম দেশপ্রেম থাকে, যদি মনুষ্যত্ব থাকে, বিবেক বিবেচনাবোধ থাকে তবে ফিরে আসুন। আপনারা মীরজাফরের উত্তরসূরি হবেন না। ১৮ কোটি মুক্তিকামী মানুষের ঘৃণা রুদ্ররোষের শিকার হবেন না। প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী ভাগবাটোয়ারার পাতানোর নির্বাচনে কেউ কোন সহযোগিতা করবেন না। ভোটাররা ভোটদান থেকে বিরত থাকুন। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় এই অমার্জনীয় অপকর্মের জন্য জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। ইতিহাসের পাতায় আপনাদের নাম বেইমান-মীরজাফরের পাশে উৎকীর্ণ থাকবে। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ।

এই পরীক্ষা বার বার আসেনা।

তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায়, গণভবনের তালিকায় শুধুমাত্র নির্বাচনের নামে সিলমোহর দেয়ার জন্য কেন রাষ্ট্রীয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা লোপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে? দেউলিয়া এবং বুভুক্ষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কেন এই ভোটের নামে করা হচ্ছে ভেল্কিবাজী? কাকে এমপি ঘোষণা দেয়া হবে আর কাকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে সব কিছুই তো প্রস্তুত আছে। এখনি ঘোষণা দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। যারাই জিতবে তারা সবাই তো প্রধানমন্ত্রীর লোক-‘অল দি প্রাইমমিনিস্টারস মেন’! এত নাটক, এত কাহিনী, এত হত্যা-গুম-খুন-গ্রেপ্তার-সহিংসতা করার দরকার কি?

রিজভী বলেন, গোটা দেশের জনগণ, সমস্ত বিরোধী দলগুলোর প্রচণ্ড বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত আহ্বান উপেক্ষা করে সরকার একতরফা প্রহসনের নির্বাচন করার অপরিণামদর্শী আত্মঘাতী খেলায় মেতে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর একগুয়েমী দেখে অনুমিত হচ্ছে, তিনি দেশ এবং জনগণকে ধ্বংস করেই তবে বিদায় নিবেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা হর্স ট্রেডিং শুরু করেছিল, কিন্তু তাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে বিএনপির সাচ্চা কাউকে হালুয়া রুটির লোভে রাজদলে হায়ার করতে পারেনি। গুটিকয় উচ্ছিষ্ট, পূর্ব থেকেই দল বিতাড়িত কিছু জনধিকৃতকে টাকার বিনিময়ে ভাগিয়ে নিয়ে আওয়ামী লীগ এখন লোক ভাগানোর দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাদের লজ্জা হওয়া উচিত যে, দেড় বছর ধরে এতো রাষ্ট্রীয় লোক লস্কর মাঠে নামিয়ে এতো নগদ অর্থ বিতরণ, ব্লাকমেইলিং, এমপি-মন্ত্রী করার প্রলোভন দিয়ে পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো অবস্থা হলো। যাদের কিনে ভোটে ভিড়িয়েছে তাদের দুই-একজন ছাড়া কারো নাম পর্যন্ত শোনিনি দেশের মানুষ। এমপি হওয়ার জন্য জনগণের কাছে নয়, আওয়ামী লুটেরা চক্র এবং তাদের দোসররা এখন এমপি হওয়ার জন্য মাফিয়াদের বর্তমান আস্তানা গণভবনের দিকে ছুটছে। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই হাস্যকরভাবে আকুতি জানাচ্ছেন সংসদে যাওয়ার জন্য। তারা কেউ সরকার গঠনের কথা ভাবছেন না, তারা শুধু সংসদে যেতে চান। তাই তারা শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে, শেখ হাসিনা তার হাতে রাখা ‘হাড্ডি’ দিয়েছেন আরেক নেতার হাতে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, মানবাধিকার দিবসে বিএনপি বিশৃঙ্খলা করতে পারে- এমন গোয়েন্দা তথ্য নাকি তাঁর কাছে রয়েছে। আসলেই ওবায়দুল কাদের সাহেবের সাংবাদিক সম্মেলন যেন চিত্তকর্ষক কমিডি শো এবং তিনি হচ্ছেন যোগ্য হোস্ট। গোয়েন্দা তথ্যের উৎস কি সুধা ভবন নাকি গণভবন। আসন্ন তামাশার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী ও নাটিকা রচনা করবেন তার আভাস পাওয়া যায় এসমস্ত কথায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গ্রেপ্তার, আহত, মামলা এবং আসামীর তালিকা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি জানান, এসময়ে ৩৬০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আহত হয়েছে ৭৫ জন, মামলা দায়ের করা হয়েছে ১৮টি। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ১৭৮৫ জন নেতাকর্মীকে।